Bulletin_2011
   সম্পাদকীয়
   প্রচ্ছদ-কাহিনী
   আইন-আদালত
   সাম্প্রতিক
   আন্তর্জাতিক
   পরিবেশ
   মত-অভিমত
   সংগঠন বার্তা
 
 

 

যোগাযোগ

সম্পাদক, বুলেটিন
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
৭/১৭ ব্লক-বি, লালমাটিয়া
ঢাকা-১২০৭
ইমেইল-
ask@citechco.net,
publication@askbd.org

   
   
   
   

... .      
           

সম্পাদকীয়

 

এবারের বুলেটিনের প্রচ্ছদ কাহিনী যুদ্ধাপরাধের বিচারের লক্ষ্যে চলমান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট, ১৯৭৩-এর বিধান অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ বিচারের ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার। এই পৌনে দুই বছরে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আলোচ্য নিবন্ধের লেখক এসব সমালোচনার যৌক্তিকতা এবং সরকারের করণীয় নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তাছাড়া ‘বিচার’-এর সংজ্ঞা, ‘ন্যায়বিচার’ এবং ‘মানসম্মত’ বিচার ইত্যাদি নিয়ে রয়েছে তাঁর চমকপ্রদ বিশ্লেষণ। উল্লেখ্য, এ দেশের লাখো মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য একটি বিচার নিশ্চিত করতে আমাদের দাবি- সরকার যেন অবশ্যই বুদ্ধিদীপ্ত, সাহসী ও তৎপর ভূমিকা রাখে। এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে, অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে দীর্ঘ প্রত্যাশিত যে বিচার শুরু হয়েছে, তা যেন স্বচ্ছ, মানসম্পন্ন ও যথাযথ হয়। বিগত অনেকগুলো বছর এই বিচারের দাবিকে শুধু স্তব্ধ করে রাখা হয়নি, যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তি দেয়া থেকে শুরু করে দায়হীনতার এক ধারাবাহিক ইতিহাস রচিত হয়েছে। সেই অন্ধকার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম ধাপ এই বিচার। কোনো কারণে যদি তা পণ্ড হয়, তাতে ন্যায়বিচার আবারো নাগালের বাইরে চলে যাবে। মানুষের বিচার না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস আরো দীর্ঘ, আরো করুণ হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সামপ্রতিক সময়ে অপহরণ ও গুম-হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। পত্রিকা খুললেই স্বজনদের আহাজারি, নদীর কিনারে ভেসে ওঠা পচা-গলা লাশ দেখতে হচ্ছে। মাসের পর মাস কেউ কেউ নিখোঁজ- বৃদ্ধা মা সন্তান তালাশ করে পথে পথে ঘুরছেন। গুপ্তহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের বরাত দিয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো এ ধরনের অধিকাংশ ঘটনা সংঘটনের ক্ষেত্রে র‌্যাব-পুলিশ-ডিবির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছে। এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিশেষ ও নিয়মিত বাহিনীর মুখপত্রগুলো জানাচ্ছে- পুলিশের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধীরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাও যদি হয়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করাসহ এসব অপরাধীকে ধরার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই তো। তারা কেন যথাযথ দায়িত্ব পালন করে, আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি লাভের চেষ্টা করছেন না! দুঃখজনক যে, একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় এমন গুপ্তহত্যার নজির খুব কমই দেখা যায়।

বুলেটিনের আইন-আদালত পর্বে এবার বেশ কিছু পরিবেশ-সংক্রান্ত মামলা-পর্যালোচনা ছাপা হয়েছে। এগুলো বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা মামলা। লিখেছেনও উক্ত সংস্থার আইনজীবী। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বুলেটিনে আমরা বরাবরই মানবাধিকার, পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়ে আইনি খবর পরিবেশন করে থাকি, তা আসক-এর দায়ের করা মামলাই হতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পাঠক যাতে দেশের আইন ও আদালত পরিস্থিতি নিয়ে মোটামুটি একটি ধারণা পান- এই আমাদের উদ্দেশ্য। তবে বিষয়টি হতে হবে গুরুত্বপূর্ণ ও লেখাটি মানসম্পন্ন। এসব বিবেচনায় রেখে আগামী নতুন বছরে আমাদের আইন-আদালত পর্বটিতে আরো অনেকে শামিল হবেন- এ প্রত্যাশা করি।

উপদেষ্টা সম্পাদক: হামিদা হোসেন, সুলতানা কামাল, এডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান * সম্পাদক: শাহীন আখতার
আইনগত সম্পাদনা: আবু ওবায়দুর রহমান * প্রকাশনা সহযোগী: কানিজ খাদিজা সুরভী * প্রচ্ছদ: মনন মোর্শেদ
কম্পিউটার কম্পোজ: মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, রেজওয়ানুল হক * ফটোগ্রাফ: আসক, ইন্টারনেট * মুদ্রক: অর্ক