Bulletin_September_2012
   সম্পাদকীয়
   প্রচ্ছদ-কাহিনী
   ফলোআপ
   তথ্যানুসন্ধান
   আইন-আদালত
   পাঠক পাতা
   সেমিনার
   পরিসংখ্যান চিত্র
 

যোগাযোগ

সম্পাদক, বুলেটিন
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
৭/১৭ ব্লক-বি, লালমাটিয়া
ঢাকা-১২০৭
ইমেইল-
ask@citechco.net,
publication@askbd.org

   
   
   
   

... .      
           

সম্পাদকীয়

 

এবারের বুলেটিনের প্রচ্ছদ কাহিনী- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সুলতানা কামালের জবানবন্দি। গত ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা গোলাম আযমের বিরুদ্ধে তিনি এ জবানবন্দি প্রদান করেন। তারপর আসামি পক্ষের আইনজীবীর জেরা চলে আরো দু’দিন। সুলতানা কামাল তাঁর জবানবন্দিতে গোলাম আযমের একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের নানা দিক অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন। আমরা জবানবন্দির অংশবিশেষ এখানে পত্রস্থ করছি এ প্রত্যাশা নিয়ে যে, একাত্তরে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে পাঠকমনে যে অস্পষ্টতা রয়েছে, তা দূর করতে এ জবানবন্দি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রচ্ছদ অধ্যায়ের আরেকটি প্রতিবেদন ‘লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ওপর নমপেনে শুনানি’। গত ১০ ও ১১ অক্টোবর কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে অনুষ্ঠিত এ শুনানিতে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র সংগ্রাম ও সংঘর্ষ চলাকালে নির্যাতনের শিকার নারীরা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দেন। উল্লেখ্য, কম্বোডিয়া, নেপাল ও তিমুরে নির্যাতনের শিকার কয়েকজন নারীর সঙ্গে ’৭১-এ নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশের প্রতিনিধিও সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ইদানীংকার উল্লেখযোগ্য আইনি সংস্কার হলো- জাতীয় সংসদে পাস হওয়া হিন্দু বিয়ে নিবন্ধন আইন ২০১২ এবং Registration (Amendment) ২০১২। উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালের পর এই প্রথম ছোট আকারে হলেও আমাদের দেশে হিন্দু পারিবারিক আইনে সংস্কার আনা হলো। আইনটির কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করে এখনও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি এবং বিধি প্রণয়নও হয়নি। বিধি প্রণয়ন হওয়ার পরই কেবল সরকার হিন্দু বিয়ে রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিতে পারবেন। আর তখনই আইনটি প্রায়োগিক দিক থেকে কার্যকারিতা পাবে। এছাড়া বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে এ আইনে। এসব সমস্যা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের যে প্রচলিত ধারণা ‘হিন্দু ব্যক্তিগত আইন সংস্কারযোগ্য নয়’- এ কথাটি অন্তত এ আইনি সংস্কারের মাধ্যমে অসার প্রমাণিত হলো।

এ সময়কার সবচেয়ে বড় বিপর্যয়কর ঘটনা- তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসের অগ্নিকাণ্ড, যেখানে শতাধিক শ্রমিক নিহত এবং প্রায় দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনকে শনাক্ত করা গেছে। ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে ৫৩ জনকে জুরাইন গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে। সবচেয়ে আতঙ্কজনক খবর হলো, এতোগুলো মৃত্যুর জন্য এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে দায়ী করা হয়নি। আমাদের প্রশ্ন- বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার দায় যেখানে কারখানা মালিক ও সরকারি কর্তৃপক্ষের, তারা কী করে এ ক্ষেত্রে পার পেয়ে যান? বা সরকার যে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডটিকে নাশকতামূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করছে, তা কিসের ভিত্তিতে এবং এ ক্ষেত্রেও রহস্য উদ্ঘাটনে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না কেন? এমন নৃশংস ঘটনাও কি বরাবরের মতো বিচারের ঊর্ধ্বে থেকে যাবে? সরকার কি এর দায় এড়াতে পারবে? প্রশ্নগুলো ভাবা জরুরি।

 

উপদেষ্টা সম্পাদক: হামিদা হোসেন, সুলতানা কামাল, এডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান, মোঃ নূর খান
সম্পাদক: শাহীন আখতার * আইনগত সম্পাদনা: আবু ওবায়দুর রহমান * প্রকাশনা সহযোগী: কানিজ খাদিজা সুরভী, মাবরুক মোহাম্মদ * প্রচ্ছদ: মনন মোর্শেদ * অঙ্গসজ্জা: অনিল চন্দ্র মন্ডল, হেলাল উদ্দিন সোহান * কম্পিউটার কম্পোজ: মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, রিজওয়ানুল হক, মো. মহসিন আলী * ফটোগ্রাফ: আসক, প্রথম আলো, ইন্টারনেট
মুদ্রক: সাহিত্য প্রকাশ