ফলোআপ
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
তদন্ত এবং বিচার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক
এ টি এম মোরশেদ আলম ও মাবরুক মোহাম্মদ
বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি যে নৃশংস ঘটনা ঘটে তার সূত্র ধরে এ পর্যন্ত মোট ২২ জন বিডিআর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এদের কেউ কেউ ‘আত্মহত্যা’ করেছে আবার কেউ কেউ ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি। কিন্তু পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন মহলে এসব ‘আত্মহত্যা’ ও ‘হার্ট অ্যাটাক’ নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে এই কারণে যে, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যে বক্তব্য, নিহতের স্বজনদের বক্তব্যের সাথে তার পার্থক্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হয়তো বলছেন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে কিন্তু নিহতের আত্মীয়রা বলছেন, লাশের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। সুতরাং তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং এর ফলেই সে মারা গেছে। এই বিতর্কের কারণেই মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রশ্নগুলো সামনে চলে আসে। বাংলাদেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দলিল নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়টিকে গুরুত্বসহ বিবেচনা করে এবং এর জবাবদিহিতা দাবী করে। আইনানুযায়ী এরূপ প্রতিটি মৃত্যুরই সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
২৬ ফেব্রুয়ারি সরকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু বিডিআর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ কারণে পরদিনই উক্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও গঠিত হয় আরেকটি তদন্ত কমিটি। তাছাড়া ঘটনার পর যে মামলা দায়ের হয় তার তদন্তভার অর্পণ করা হয় সিআইডি ও র্যাবের ওপর। তিনটি কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল ফারুককে।
তদন্তকালীন নির্যাতনের অভিযোগ
ঘটনার পর ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলের মধ্যে পিলখানা থেকে অনেক বিডিআর সদস্যই পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়া সদস্যদের ধরার জন্য সরকার ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ নামে একটি অভিযান শুরু করে। সেই সাথে সরকার ২৭ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা দিয়ে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে জওয়ানদের কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়। নির্দেশ পেয়ে অনেক বিডিআর সদস্য স্বেচ্ছায় কাজে যোগদান করেন। আবার অপারেশন রেবেল হান্টের সময় বিভিন্ন জায়গা থেকেও অনেককে আটক করা হয়। এরপর যোগদানকৃত বা আটককৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তথ্য আদায়ের জন্য যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তা প্রচলিত আইনানুসারে হচ্ছে না- বরাবরের মতো এবারও ব্যাপকভাবে এই অভিযোগ উত্থাপিত হতে থাকে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা ঘোষণা করে। অভিযোগ ওঠে যে, আটককৃত বিডিআর সদস্যদের প্রচণ্ডভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, জোর করে দোষ স্বীকার করানো হচ্ছে।
কেসস্টাডি-১: বিডিআর জওয়ানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
তেইশ বছর বয়সী এই বিডিআর জওয়ানও ঢাকার বাইরে সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকার পিলখানায় যোগ দেন। নিহত জওয়ানের পিতা আসক-এর তথ্যানুসন্ধান প্রতিনিধিদলকে জানান, “২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সে আমাকে ফোন করে বলে, আব্বা আমি তো পিলখানার পেছন দরজা দিয়ে বের হয়ে গেছি। আমি তখন ছেলেকে বলি- তুমি বাড়ি চলে আসো। ছেলে বলে- এখন আমি বাড়িতে গেলে রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে যাবো। সে জন্য আমি আমার সেক্টরে জয়েন করতে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সকলকে সাধারণ ক্ষমা করে দেবে। আমার জন্য দোয়া করো আব্বা।” এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি সে তার ক্যাম্পে যোগ দেয়।
নিহত জওয়ানের পিতা বলেন, “মৃত্যুর দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে (মৃত্যুর প্রায় আধাঘণ্টা আগে) সে ফোন করে বলে- আমার সময় হলো আর এক মিনিট। আমি আর আব্বাকে আব্বা বলে ডাকব না, আম্মাকে আম্মা বলে ডাকব না; আম্মাকে সান্ত্বনা দিও। আমি বলি- কী রে আব্বা, তোর কি হয়েছে? তোর কথা তো সরছে না। গলা এতো ভারি কেন? এসময় লাইন কেটে যায়। তার মোবাইলটা মনে হয় কেউ কেড়ে নিয়ে গেল।’ কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছে।
মৃত্যুর কারণ যেটাই হোক, মৃতের আত্মীয়রা যখন দাবি করছেন যে, এসব মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, তখন আইনতই মৃত্যুগুলো সম্পর্কে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
সেনাবাহিনী এবং সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের নিজ নিজ প্রতিবেদন ইতোমধ্যে দাখিল করেছে। তদন্তের শুরুতে ঘটনার পেছনে জঙ্গিদের হাত থাকার কথা শোনা গেলেও কোনো তদন্ত কমিটিই এর সত্যতা পায়নি। সেনাবাহিনীর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনার সাথে কোনো তৃতীয় পক্ষ জড়িত নেই। তবে সরকারদলীয় দু’একজন বিডিআর সদস্যদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল বা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
অন্যদিকে, সরকারি প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সদস্য নাসিরউদ্দিন পিন্টুর জড়িত থাকার কথা বলা হয়। এরপর তাকে গ্রেফতারও করা হয়। সরকারি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার কথা বলা হয়েছে এবং ব্যর্থতার দায়ে অভিযুক্ত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। আরো একটা ইতিবাচক দিক হলো, সরকার এই প্রথম কোনো প্রতিবেদন জনগণের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করলো। সিআইডির প্রতিবেদন অবশ্য এখনো দাখিল করা হয়নি।
বিচার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সরকার মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। পিলখানায় সংঘটিত ঘটনাগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: বিদ্্েরাহের বিচার এবং সেনা কর্মকর্তা হত্যা, লুট ও অগ্নিসংযোগের বিচার। বিদ্রোহের বিচার বাংলাদেশ রাইফেলস অর্ডার, ১৯৭২ অথবা আর্মি অ্যাক্ট ১৯৫২-এর অধীনে করা যায় এবং সেনা কর্মকর্তা হত্যা, লুট ও অগ্নিসংযোগের বিচার দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর অধীনে করা যায়। আবার সবগুলো অপরাধকে একত্র করে আর্মি অ্যাক্ট-১৯৫২-এর অধীনে বিচার করা যায়। আর্মি অ্যাক্ট-এর ৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজনবোধে এই আইনকে অন্য শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারে এবং বাংলাদেশ রাইফেলস অর্ডার-এর ৩ ধারায় বিডিআরকে শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আবার সরকার পিলখানায় সংঘটিত সকল অপরাধের বিচারের জন্য আলাদা আইন প্রণয়ন করতে পারে। বিদ্রোহের বিচার আর্মি অ্যাক্ট-এর অধীনে করতে গেলে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে আইনটি যেহেতু বিডিআর-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না তাই এটিকে এখন ভূতাপেক্ষা কার্যকারিতা দিতে হবে অর্থাৎ ঘটনার দিন আর্মি এ্যাক্ট বিডিআরের জন্য প্রযোজ্য ছিল বলে ধরে নিতে হবে। বাংলাদেশ রাইফেলস্ অর্ডার-এর ১এ ধারা অনুযায়ী বিদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড আর আর্মি অ্যাক্ট-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী বিদ্রোহের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর্মি অ্যাক্টকে বিডিআরের ক্ষেত্রে ভূতাপেক্ষা কার্যকারিতা দেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে শাস্তি বৃদ্ধি করা। যদিও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সাধারণ নীতি হলো শাস্তি বৃদ্ধির জন্য কোনো আইনকে ভূতাপেক্ষা কার্যকারিতা দেয়া যায় না, তবে অপরাধের ধরন, মাত্রা ও গুরুত্ব বিচারে ভূতাপেক্ষা কার্যকারিতা দেয়া যেতে পারে। এই বিবেচনায় আর্মি অ্যাক্ট-কে পিলখানার সংঘটিত অপরাধের জন্য ভূতাপেক্ষা কার্যকারিতা দেয়া যায়। সেক্ষেত্রে আবার সংবিধানের ৩৫(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হবে কারণ সেখানে বলা আছে। ‘অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতিত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যাইতে পারিত, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না।’ আবার এই অনুচ্ছেদটি বিডিআরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কিনা সেই বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। কারণ এটি সংবিধানের মৌলিক অধিকারের অন্তর্গত এবং অনুচ্ছেদ ৪৫ বলছে, ‘শৃঙ্খলা বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষাজনিত আইনের যে কোনো বিধান উক্ত বাহিনীতে শৃঙ্খলারক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধান বলে এই বিধানের ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার অংশের কোন কিছুই প্রযোজ্য হবে না।’ অনুচ্ছেদ ৪৫-এর উল্লিখিত ‘কোন শৃঙ্খলামূলক আইনের যে কোন বিধান’ শব্দগুলোর যথাযথ আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। এই অংশের দ্বারা কেবল সাধারণ শৃঙ্খলা বিধানের কথা বলা হয়েছে নাকি সামগ্রিক বিধান অর্থাৎ বিদ্রোহের বিচারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে তা স্পষ্ট করতে হবে। সংবিধান ব্যাখ্যার সাধারণ নীতি হলো- অধিক মানবিক ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করতে হবে। এই নীতি অনুসরণে মৌলিক অধিকারের অংশটি বিডিআরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেয়া যায় অর্থাৎ, বিদ্রোহের বিচারে অনুচ্ছেদ ৪৫ অকার্যকর। আবার তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেয়া হয় যে, অনুচ্ছেদ ৪৫ বিদ্রোহের বিচারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, অর্থাৎ বিডিআরের মৌলিক অধিকার নেই তবুও সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ ১১(২)-এ বলা হয়েছে, দণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের সময় যে শাস্তি প্রযোজ্য ছিল তার চেয়ে গুরুতর শাস্তি দেয়া যাবে না। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক অনুসরণ ও অনুশীলনের কারণে...সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র আন্তর্জাতিক আইনের জাস কোজেন (jus cogens)-এর মর্যাদা পেয়েছে। অর্থাৎ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য এটি মেনে চলা বাধ্যতামূলক এবং এর থেকে কোনো রকম বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সামগ্রিক বিবেচনায় বিদ্রোহের বিচার বাংলাদেশ রাইফেলস্ অর্ডার ১৯৭২-এর অধীনে এবং অন্য অপরাধগুলো দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর অধীনে করাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
ফৌজদারি বিচারের আরেকটি নীতি হলো ‘দশজন অপরাধী পার পাক, কিন্তু একজন নিরপরাধও যেন শাস্তি না পায়।’ কিন্তু এই নীতিটি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা কঠিন হবে। এক সাথে এতগুলো সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার পরও একজন অপরাধী পার পেয়ে যাবে- এটি এই হত্যাযজ্ঞে ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে প্রত্যেকটি অপরাধীরই বিচার করতে হবে, সেই সাথে কোনো নিরপরাধ যেন শাস্তি না পায় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
তাই এখন অবস্থা দাঁড়িয়েছে ‘প্রত্যেকটি অপরাধীই শাস্তি পাক এবং প্রত্যেক নিরপরাধই মুক্তি পাক।’ সন্দেহ নেই এটি একটি জটিল এবং দুরূহ কাজ। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে অত্যন্ত সাবধানে ও যত্নের সাথে এগোতে হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আর্মি আইনে বিচারের আরো একটা বড় উদ্বেগের কারণ আছে। তা হচ্ছে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। সেনা আদালতে বিচারের অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
শেষ কথা
পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিঃসন্দেহে বর্বরোচিত একটি ঘটনা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং তার মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা অবশ্যই চাই। কিন্তু একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতাও আমরা দেখতে চাই। অভিযুক্তরা যেন তাদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা এ ঘটনাকে ঘিরে নৃশংসতা আর অন্যায়ের পরিসংখ্যান শুধুই দীর্ঘ হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না। আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে যে তা সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব রাখবে তা বলাই বাহুল্য।