সম্পাদকীয়
   প্রচ্ছদ-কাহিনী
   প্রতিবেদন
   আইন-আদালত
   মত-অভিমত
   ফলো-আপ
   নারী
   আন্তর্জাতিক
   পাঠক-পাতা
   সংগঠনবার্তা

 

যোগাযোগ

সম্পাদক, বুলেটিন
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
৭/১৭ ব্লক-বি, লালমাটিয়া
ঢাকা-১২০৭
ইমেইল-
ask@citechco.net,
publication@askbd.org

   
   
   
   

... .      
           

নারী

নারীবাদের সামপ্রতিক তত্ত্ব-তালাশ

বাসবী বড়ুয়া

 

লেখাটি নারীবাদের তাত্ত্বিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে। এবং এটির আকর উৎস ইউনিভার্সিটি অব আমস্টারডামের ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস আর্কাইভস অ্যান্ড লাইব্রেরির পরিচালক ড. সাসকিয়া ই. ভিরিঙ্গার ২০০৮ সালে প্রকাশিত লেখা “From Sisterhood and Feminist Solidarity to Affinity.” যে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের পাটাতন নির্মিত হয় তত্ত্বীয় ধারণার আলোকে, বিশেষভাবে বলতে গেলে দার্শনিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মাধ্যমে। দর্শন শুরু হয়েছিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উৎস খুঁজতে গিয়ে আর তার ক্রমবিকাশ ঘটেছে ব্যক্তির অস্তিত্বের নানা অনুসন্ধানে। মার্কসীয় দর্শনের পর নারীবাদই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দর্শন, যা উন্মুক্ত করে দেয় সভ্যতার গায়ে মোড়ানো জটিল আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর স্বরূপ। এই লেখা- নারী আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি কোনদিকে, সামপ্রতিক সময়ের তাত্ত্বিক ইতিহাসের আলোকে তার হদিস মেলানোর একটি প্রয়াস।

গত শতাব্দীর সত্তর এবং আশির দশকে নারীবাদের তাত্ত্বিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল দুটি বিষয়: নারীর ভগ্নিত্ববোধ এবং সংহতি। ‘নারীর ভগ্নিত্ববোধ’ নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রারম্ভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বীয় ধারণা। লিঙ্গ বৈষম্য (Sexism) এবং পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা নিতে হলে প্রত্যেক নারীকে তাদের নির্যাতনের সমরূপতা বুঝতে হবে, যাতে করে তারা সংহতি স্থাপন করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শুধু পশ্চিমা নারীরা নয়, বিশ্বের সব প্রান্তের নারী একই ধরনের নির্যাতনের শিকার এবং নারীত্বের বঞ্চনার সাদৃশ্য তাদের অন্য প্রান্তের নারীদের সঙ্গে একই সূত্রে গ্রন্থিত করবে, এটিই ছিল ভগ্নিত্ববোধের মূল সূত্র, যা অচিরেই বুর্জোয়া ও বর্ণবাদী হিসেবে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়। অশ্বেতাঙ্গ নারীরা অভিযোগ করেন, ভগ্নিত্ববোধের ধারণা জাতি এবং শ্রেণীভেদের প্রশ্নগুলোকে মোকাবেলা করতে অক্ষম। তারা বললেন, কৌশল হিসেবে ‘সংহতি’র ধারণা অনেক বেশি শক্তিশালী। সংহতির ধারণায় সমরূপ নির্যাতনের বহুমাত্রিক কারণগুলোর ব্যাপকতাকে জায়গা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং আত্মিক বন্ধন যেটা নারীদের সংহতি বোধ তৈরি করে, সেটা পূর্বনির্ধারিত, স্থির কোনো প্রপঞ্চ নয়, বরং সেই বন্ধন এবং সংহতি গঠিত হবে বাস্তব রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে। Black Women and Feminism-এর লেখক, নারীবাদী তাত্ত্বিক বেল হুকস মনে করেন, সংহতি আপনাআপনি বিকশিত হতে পারে না, বরং দরকার পুনঃ পুনঃ অঙ্গীকারের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার। এটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় ‘বিশেষ’ অথবা ‘ভিন্ন’তার ভিত্তিতে সর্বজনীন ধারণাবোধের সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে, উসকে দেয় নারীর অভিজ্ঞতার ভিন্নতার ওপর বিতর্কগুলোকে, পথ খুলে দেয় ভিন্নতার প্রেক্ষিতে সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনাকে।

এই ‘সংহতি’ বোধের ধারণায় উত্তর-আধুনিক চিন্তাচেতনার প্রভাব সুস্পষ্ট। উত্তর-আধুনিকরা জোর দিলেন সত্যের বহুবিধ প্রকাশে, সত্তার বহুরূপতায় (heterogeneous)। সুতরাং পূর্বনির্ধারিত ভগ্নিত্ববোধের ভিত্তিতে অনুমিত নারীবাদী সত্তার ধারণার বদলে জায়গা করে নিল অন্যদের সঙ্গে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে সত্তার বিনির্মিত রূপ। সুতরাং নারীসহ সব ব্যক্তি তাত্ত্বিকভাবে গঠিত, তাদের অবস্থান, আচরণ কোনোটিই প্রকৃতি প্রদত্ত নয়। এই চিন্তাপদ্ধতি নারীবাদী রাজনীতিতে দ্বন্দ্বের জন্ম দিল। হারাওয়ে বলছেন এভাবে, যদি ‘নারীসত্তা’র ধারণাই লুপ্ত হয়ে যায় যেটা তাদের সংগঠিত করে, তাহলে কাদের নারীবাদ প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনিই প্রথম নারীবাদী লেখক যিনি সাদৃশ্যতার (affinity) ভিত্তিতে জোট গঠন করে রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্ভাব্যতার কথা আলোচনা করেন। সুতরাং এই পরিপ্রেক্ষিতে নতুন তত্ত্ব হিসেবে হাজির হলো ‘সাদৃশ্য’বাদের। যখন এরকম একটি জোট গঠিত হলো, বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান তাদের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে সহযোগিতা করতে সম্মত হলো। ফলে সংহতির জালের বিস্তার বেশ প্রসারিত হলো। এখন নারীবাদ বিষয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে কাউকে সমপ্রেমী নারী, ট্রান্সজেন্ডার অথবা ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুত্বের পরিচয়বাহী হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলো না। ভিরিঙ্গা এক্ষেত্রে একটি মজার ঘটনার উল্লেখ করেন: “আমার মনে আছে, তুমুল বিতর্ক বেধে যায় আমস্টারডামের নারী আন্দোলনের সদর দফতর ভবনের কিছু মেরামত কাজ করতে গিয়ে। বলে রাখা প্রয়োজন, পুরুষ নির্মাণকারীদের প্রবেশ সেখানে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল। ফলে প্রশ্ন দেখা দেয়, কোন্‌ নারীরা প্রবেশাধিকার পাবে, শুধু ‘প্রকৃত’ নারী নির্মাণকর্মী, নাকি পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত এমন ব্যক্তিবর্গও। এই বিতর্কের তোড়ে এক সময় আমাদের ঘরখানার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়ল, কেননা সে সময় পর্যন্ত এসব পেশায় নারীরা প্রায় ছিল না বললেই চলে।”

কিন্তু বিতর্ক দেখা দেয় বহুবিধ ‘সত্য’ এবং পরিবর্তনশীল ‘পরিচয়ে’র ভিত্তিতে কীভাবে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করা যাবে। অনেক নারীবাদী উত্তর-আধুনিক নারীবাদকে সমালোচনা করলেন এভাবে যে, ‘লিঙ্গ’ এবং ‘নারী’ ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলে রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে নারীবাদের পথ একেবারেই রুদ্ধ হয়ে যাবে। তারা বললেন, উত্তর-আধুনিক নারীবাদ অনেক ডিসকোর্সের একটিকে ব্যাখ্যা করে এবং তাদের অবস্থান বর্তমান সময়ের বস্তুগত এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাজনৈতিক ‘সত্য’ মোকাবেলায় কোনো আত্মরক্ষামূলক বিশ্লেষণ নেই। এটা বরং অব্যবহারযোগ্য একটি রাজনৈতিক অবস্থান। কেননা ‘নির্যাতনের অভিজ্ঞতার অংশীদারিত্ব’ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া সুস্পষ্ট করা অসম্ভব।’ তারা উত্তর-আধুনিক নারীবাদীদের ব্যক্তিসত্তার ধারণাটিকে অপ্রয়োজনীয় অথবা লঘু বিষয় হিসেবে দেখার প্রবণতাকে সমালোচনা করেছেন। সাদৃশ্যবাদ আগে থেকেই নৈরাজ্যবাদীদের মহলে বেশ জনপ্রিয় ছিল। এই ধরনের দলগুলোর ধারণা জন্ম লাভ করে ১৯ শতকে স্পেনের নৈরাজ্যবাদী এবং শ্রমিক শ্রেণীর আন্দোলনের সময়ে, যা পরবর্তীকালে স্পেনের গৃহযুদ্ধে নাৎসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ পায়। ১৯৬০-এর দশকে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের সময় এই ধারণার আদলে নানাবিধ দল গড়ে ওঠে, আরও গড়ে ওঠে নারীদের ‘চেতনা জাগরণীর’ দল। ষাট-পরবর্তী নারীবাদের রাজনৈতিক উদ্যোগের সংজ্ঞায়নে রূপান্তর লক্ষ্য করা যায়। তারা প্রথাসিদ্ধ দলগুলোর প্রচারণা কৌশল এবং কিছু পরিমাণে বামপন্থিদের বিরুদ্ধবাদী রাজনীতির বাইরে স্বতন্ত্র অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে। কেননা উভয় ক্ষেত্রেই আন্দোলনগুলো ছিল প্রধানত পুরুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং নারীদের এজেন্ডার বড় কোনো পরিসর সেখানে ছিল না। ভিরিঙ্গা বলছেন, সামপ্রতিককালের বিশ্বায়নবিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক আন্দোলনে তরুণদের সম্পৃক্তি সাদৃশ্যবাদী তত্ত্বের ওপর গড়ে উঠছে।

তিনি কেসস্টাডি হিসেবে তাঁর লেখায় সাদৃশ্যবাদ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত আমস্টারডামের International Information Centre and Archives for the Women’s Movement (IIAV)-এর উদ্যোগে গঠিত ইউরোপিয়ান ফেমিনিস্ট ফোরামের (EFF) আনুকূল্যে সর্বইউরোপীয় নারীবাদীদের সম্মেলনের প্রচেষ্টার একটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। ইউরোপিয়ান ফেমিনিস্ট ফোরামের আয়োজকরা Haraway বর্ণিত সাদৃশ্যবোধের তত্ত্বের ভিত্তিতে একটি সর্বইউরোপিয়ান প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে সম্মত হন। দলগুলো একত্র হয় নিজেদের মধ্যকার সমরূপতার ভিত্তিতে নয়, বরং তাদের একই শত্রু, নিদেনপক্ষে যেটাকে তারা মনে করছেন সবার একই শত্রু তার বিরুদ্ধে লড়াই করার নিমিত্তে। শত্রুর পরিচয় নির্মাণ ও সংজ্ঞায়নের মধ্য দিয়ে তারা একত্র হতে থাকেন, সে শত্রু হতে পারে বর্ণবাদ, লিঙ্গবাদ অথবা পুঁজিবাদ। সুতরাং সংহতির বিষয় পরিবর্তিত হলো, সমরূপ নির্যাতনের অভিজ্ঞতা ছেড়ে এখন একটি সাধারণ শত্রু খোঁজার চেষ্টা। এই পুরো প্রক্রিয়া গভীরভাবে রাজনৈতিক এবং যারা বাদ পড়ে যান তাদের বিষয়ে নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নটা রয়েই যায়। Mouffe দেরিদার অমীমাংসিত বিষয়ের ওপর মীমাংসায় পৌঁছানোর ধারণা কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পার্থক্যগুলো মোচনের অসম্ভাব্যতার নিরিখে বলেন, প্রত্যেক সামাজিক ব্যবস্থায় এবং সামাজিক ঐকমত্যে কিছু মানুষের বিয়োজন (exclusion) থাকেই, সুতরাং দ্বন্দ্ব (conflict) একটি প্রকৃত বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের গঠনসূত্র।

ইউরোপিয়ান ফেমিনিস্ট ফোরামে (EFF) ‘নারীবাদ’ অথবা ‘ইউরোপ’ কোনোটিই পূর্ব-সংজ্ঞায়িত ধারণা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি এখানে, বরং প্রত্যেককে উৎসাহিত করা হয় ইউরোপভিত্তিক নারীবাদী ফোরাম গঠনে যেসব বিষয়কে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, সেগুলো তুলে ধরার। যে কারণে পুরুষ নারীবাদী গোষ্ঠী এবং মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের দলগুলোও এই ফোরামের অংশ হয়। ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক এবং নারীবাদী আন্দোলনের অর্থনৈতিক সমস্যার প্রেক্ষাপটে ধরে নেয়া হলো, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে এই ফোরাম ব্যাপক জনমত ও কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তাদের প্রথম ব্যতিক্রমধর্মী সম্মেলন আয়োজন করতে আমস্টারডামের ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস আর্কাইভস অ্যান্ড লাইব্রেরি (IIAV) সচিবালয়ের ভূমিকা পালন করে। সব দলকে একত্র করার উদ্দেশ্যে এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় উন্নত কারিগরি যোগাযোগ প্রযুক্তি, যেমন: ভিডিও কনফারেন্স, ইন্টার-একটিভ ওয়েবসাইট। এক পর্যায়ে ইউরোপজুড়ে প্রায় ৩০০০ মানুষ সংলাপে অংশ নেয়। কিন্তু শেষাবধি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা রীতিমতো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ভিরিঙ্গা প্রশ্ন করলেন, ‘এই ব্যর্থতা কি তাত্ত্বিক ব্যর্থতা, নাকি আমরা ইউরোপের বাস্তবতায় নারীবাদীদের একত্র করার বাস্তব সীমাবদ্ধতাগুলোর শেষপ্রান্তে পৌঁছে গেলাম?’

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষাবধি একটি ইয়ুথ ফোরাম ও একটি বই প্রকাশিত হলো। চাক্ষুষ ফল বলতে এটুকুই। ভিরিঙ্গা মনে করছেন, বাস্তব কিছু সমস্যা যেমন: অর্থনৈতিক সমস্যা, বিশাল ইউরোপের নানান ভাষার জটিলতা, প্রয়োজনীয় সময় এবং পেশাদারি মনোভাবের অভাবের দরুন কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ হয়নি। কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে এটাই এখন সবচেয়ে কার্যকরী অবস্থান বলেই মনে করছেন তিনি। সাদৃশ্যবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যে সমালোচনা অর্থাৎ এটির অরাজনৈতিক অবস্থান, তার জবাবে তিনি বলছেন, এই তত্ত্বটি বরঞ্চ গভীরভাবে রাজনৈতিক। কারণ অপরাপর রাজনৈতিক দর্শনের চেয়ে এই দর্শনে ‘আমরা’ বলতে এক ব্যাপক জনগোষ্ঠীর এবং একইসাথে ভিন্ন ও স্থানিক স্বরের বেশিমাত্রায় জায়গা দেয়া হয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, যে কোনো রাজনৈতিক দর্শনে চিহ্নিত ‘আমরা’ আসলে একটি আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী, যারা নিজেদের সবচেয়ে সঠিক জনগনের স্বর হিসেবে আখ্যা দেয়।
বাংলাদেশের নারীবাদী আন্দোলনেও এই তত্ত্বের প্রভাব যে আছে তা সাম্প্রতিক সময়ে হিজড়া জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ যারা শারীরিকভাবে পুরুষ হয়েও মানসিকভাবে নিজেদের পুরোদস্তুর নারী মনে করেন, তাদের নারী আন্দোলনের অংশ হওয়াতেই পরিস্ফুট হয়।