Bulletin_March_2012
   সম্পাদকীয়
   প্রচ্ছদ-কাহিনী
   বিশেষ প্রতিবেদন
   আইন-আদালত
   আন্তর্জাতিক
   পাঠক পাতা
   পরিবেশ
   বিশেষ রচনা
   ফলোআপ
 
 

 

যোগাযোগ

সম্পাদক, বুলেটিন
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
৭/১৭ ব্লক-বি, লালমাটিয়া
ঢাকা-১২০৭

ইমেইল-
ask@citechco.net,
publication@askbd.org

   
   
   
   

... .      
           

সম্পাদকীয়

 

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বিগত কয়েক বছর ধরে দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪ জানুয়ারি ২০১২, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকা গ্লোবাল পোস্টের ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া বর্ডার : ওয়াল অব ডেথ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভারত বাংলাদেশের সাথে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁটাতারের প্রাচীর দিয়েছে এবং ভারতের সীমান্ত বাহিনী (বিএসএফ) এখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এই বাহিনী শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদেরই হত্যা করছে না, নিজ দেশের (ভারতীয়) সাধারণ নাগরিকদেরও গুলি করে মারছে।’ উল্লেখ্য, গরু পাচারের মতো ঘটনায় বিএসএফের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করছে সীমান্ত এলাকার অগণিত দরিদ্র মানুষ। তাছাড়া ফেলানীর মতো কিশোরী, যে চোরাচালানির সঙ্গে জড়িত নয়, সেও গুলিবিদ্ধ হয়ে কাঁটাতারে ঝুলেছিল নিজ দেশে ফিরতে গিয়ে। সম্প্রতি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাবিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করার ঘটনাটি। এর ভিডিওচিত্র ভারতের টিভি চ্যানেল এনডিটিভি ফাঁস করে দিলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তা ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে এবং সাজাপ্রাপ্ত হয় নির্যাতনকারী আটজন বিএসএফ সদস্য। এবারের আসক বুলেটিনের প্রচ্ছদ-কাহিনী ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত- কাঁটাতার, মৃত্যুফাঁদ’, হাবিবুরের নির্যাতনের ঘটনা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন উপজীব্য করে রচিত হয়েছে। তাছাড়া এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনসহ ভারতের আইন সবিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে নিবন্ধটিতে। বিএসএফের এ হত্যাযজ্ঞ যে পুরোপুরি আইনবহির্ভূত, মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন- তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। আমাদের একান্ত প্রত্যাশা ও দাবি- ভারত যেন বিগত বছরগুলোর প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বিএসএফের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং আর কারো জন্য সীমান্তের কাঁটাতার যেন মৃত্যুফাঁদ না হয়।
বুলেটিনের বিশেষ প্রতিবেদন পর্বে রয়েছে ‘যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞা এবং বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড : প্রেক্ষাপট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশ’ শিরোনামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৬ মার্চ যুদ্ধাপরাধ বিচারের ট্রাইব্যুনাল চালু হওয়ার পর থেকে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠন বিভিন্ন বিষয়ে এর সমালোচনা করছে। সমালোচকেরা যে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সেগুলো হচ্ছে- ৪০ বছর পর বাংলাদেশের এই বিচার করার এখতিয়ার আছে কিনা, ১৯৭১ সালের যুদ্ধটি কি ‘গৃহযুদ্ধ’, ‘অভ্যন্তরীণ সংঘাত’, না ‘দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ’, আইনটির অধীনে ট্রাইব্যুনালের ভূতপূর্ব এখতিয়ার, মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এই অপরাধের বিচার করতে পারে কিনা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষিত হচ্ছে কিনা, অপরাধীদের কোনো অধিকার দেয়া হচ্ছে কিনা ইত্যাদি। এ সব ক’টি প্রশ্নেরই যথাযথ জবাব দিয়েছেন আলোচ্য রচনার লেখকদ্বয়। সর্বোপরি বলতে হয় যে, যুদ্ধাপরাধের বিচার এ দেশের মানুষের প্রাণের দাবি। স্বচ্ছতা বজায় রেখে এর বিচার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক- এ একান্তভাবে কাম্য।
এবারের বুলেটিনের ব্যতিক্রমধর্মী রচনা ‘আয়কর বিবরণী দাখিলের খুঁটিনাটি’। লেখাটি সংশোধন ও পরিবর্তনে সহায়তার জন্য এডভোকেট এবং আয়কর উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তীকে অশেষ ধন্যবাদ।

উপদেষ্টা সম্পাদক: হামিদা হোসেন, সুলতানা কামাল, এডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান * সম্পাদক: শাহীন আখতার
আইনগত সম্পাদনা: আবু ওবায়দুর রহমান * প্রকাশনা সহযোগী: কানিজ খাদিজা সুরভী, মাবরুক মোহাম্মদ * প্রচ্ছদ: মনন মোর্শেদ * অঙ্গসজ্জা: অনিল চন্দ্র মন্ডল, হেলাল উদ্দিন সোহান * কম্পিউটার কম্পোজ: মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, রিজওয়ানুল হক * ফটোগ্রাফ: আসক, ইন্টারনেট * মুদ্রক: সাহিত্য প্রকাশ