Bulletin_September_2012
   সম্পাদকীয়
   প্রচ্ছদ-কাহিনী
   আইন-আদালত
   নারী
   তথ্যানুসন্ধান
   ফলোআপ
   মানবাধিকার
   সংবাদ সম্মেলন
   পাঠক পাতা
   সংগঠন-বার্তা
   
   

 


যোগাযোগ

সম্পাদক, বুলেটিন
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
৭/১৭ ব্লক-বি, লালমাটিয়া
ঢাকা-১২০৭
ইমেইল-
ask@citechco.net,
publication@askbd.org

   
   
   
   

... .      
           

সম্পাদকীয়

 

যুদ্ধাপরাধের বিচার- আসক বুলেটিন পাঠকদের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রায় দুই দশক ধরে বুলেটিনের পাতায় এ বিষয়টি ক্রমাগত জায়গা করে নিয়েছে। ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি যে নতুন কিছু নয়, তা অন্তরের তাগিদ থেকেই উৎসারিত, বিগত বছরগুলোর এ প্রয়াস তারই সাক্ষ্য বহন করে। আর এর মূর্তরূপ হিসেবে প্রতিভাত হয়, ২০১০ সালের ২৫ মার্চে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধের প্রায় চার দশক পর যুদ্ধকালীন গণহত্যা, খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাতে জনমনে প্রত্যাশার জন্ম হয়েছিল- এবার বুঝি দায়হীনতার অন্ধকার বৃত্ত থেকে মুক্তি মিলবে, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রতীক্ষার দিন শেষ হবে লাখো শহীদের স্বজনহারাদের, নির্যাতনের শিকার নারী ও ক্ষতিগ্রস্তদের। তাই ‘মিরপুরের কসাই’ নামে অভিহিত কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় শুনে দায়মুক্তির সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার রাজনীতির কলুষিত আপসকামিতায় পোড়-খাওয়া মানুষ প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে। সূচিত হয় যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন।

তরুণদের এই অভিনব আন্দোলন নিয়ে আমাদের এবারের প্রচ্ছদ কাহিনি ‘ইতিহাসের দায় মোচন’। সঙ্গে থাকছে বিশিষ্ট ইংরেজ লেখক ফিলিপ হানশারের ‘যে যুদ্ধ কখনো ভুলতে পারে না বাংলাদেশ’ নামে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী একটি রচনা। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের দৈনিক ইনডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় প্রকাশিত এ রচনাটিতে শাহবাগ আন্দোলনের সূত্রে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবির ন্যায্যতার পাশাপাশি বিতর্কিত গবেষকদের শহীদের সংখ্যা হ্রাস ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর যে তৎপরতা, তারও জবাব রয়েছে। এ দেশের লাখ লাখ মানুষ যে অকল্পনীয় রকমের নিষ্ঠুর ও ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল, সেটি আন্তর্জাতিক পরিসরে আজ বিস্তৃত প্রায়। ‘এই বিস্মৃত গণহত্যা প্রসঙ্গে জেনে নেয়াটা’ লেখকের ভাষায় ‘আমাদের দায়িত্ব এবং নিজেদের কর্তব্যের মুখোমুখি হওয়াটাও আমাদের উচিত। হত্যাকারীদের কোনো আশ্রয় নয়, তাদের উপেক্ষা করা বা ভুলে যাওয়াও উচিত নয়।’ লেখাটি নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাব্যঞ্জক! আর সেই বিবেচনা থেকেই পাঠকদের জন্য তা অনুবাদ করে এখানে ছাপা হলো।

সম্প্রতি দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে। বোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও লুটতরাজ, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর- তাদের পূর্বসূরিদের একাত্তরের নৃশংসতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। ধর্মকে পুঁজি করে তখনো তারা পাকিস্তান রক্ষার নামে মানুষ খুনসহ নানা ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল। গুপ্তহত্যায় যে তারা সিদ্ধহস্ত, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে আমরা এর নজির দেখেছি। এখন এসবের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে একটি সহিংস পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ মুহূর্তে সজাগ ও সক্রিয় থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।

 

উপদেষ্টা সম্পাদক: হামিদা হোসেন, সুলতানা কামাল, এডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান, মোঃ নূর খান য় সম্পাদক: শাহীন আখতার * আইনগত সম্পাদনা: আবু ওবায়দুর রহমান * প্রকাশনা সহযোগী: কানিজ খাদিজা সুরভী, মাবরুক মোহাম্মদ * প্রচ্ছদ: মনন মোর্শেদ * অঙ্গসজ্জা: অনিল চন্দ্র মন্ডল, হেলাল উদ্দিন সোহান * কম্পিউটার কম্পোজ: মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, রিজওয়ানুল হক * ফটোগ্রাফ: আসক, প্রথম আলো, ইন্টারনেট * মুদ্রক: সাহিত্য প্রকাশ