সম্পাদকীয়
   প্রচ্ছদ-কাহিনী
   মুক্তিযুদ্ধ
   আইন-আদালত
   মত-অভিমত
   আন্তর্জাতিক
   তথ্যানুসন্ধান

 

যোগাযোগ

সম্পাদক, বুলেটিন
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
৭/১৭ ব্লক-বি, লালমাটিয়া
ঢাকা-১২০৭
ইমেইল-
ask@citechco.net,
publication@askbd.org

   
   
   
   

... .      
           

সম্পাদকীয়

গত ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআরের সদর দপ্তর পিলখানায় যে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়, এর বিচার সেনা আইনে সম্ভব কিনা তা জানতে চেয়ে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান সুপ্রিম কোর্টের কাছে একটি রেফারেন্স পাঠান। জবাবে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার সেনা আইনে সম্ভব নয়। এই রেফারেন্স শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্ট দশজন বিশিষ্ট আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করে। এ দশজন অ্যামিকাস কিউরির আইনি বিশ্লেষণসহ আসক-এর নিজস্ব কিছু বক্তব্য নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের বুলেটিনের প্রচ্ছদ-কাহিনী- পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার। আসক শুরু থেকেই বলে এসেছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার সেনা আইনে করা হলে একদিকে যেমন প্রচলিত আইনি পদ্ধতির লঙ্ঘন হবে, তেমনি তা হবে বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরও পরিপন্থী। এক্ষেত্রে বিচারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। সেই সাথে আমরা মনে করি, বিচার যাতে বিলম্বিত না হয় সেদিকটাও সরকারের খেয়াল রাখা জরুরি। পিলখানা হত্যাকাণ্ড একটি নজিরবিহীন নৃশংস ঘটনা। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন এ হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছেন। অবশ্যই হত্যাকারীদের শাস্তি দিতে হবে, সেই সাথে মনে রাখতে হবে একজন নির্দোষ ব্যক্তিও যেন সাজা না পায়। সর্বোপরি আসক-এর দাবি, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর এ যাবৎ সেনা বা পুলিশি হেফাজতে যেসব বিডিআর সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের যেন উপযুক্ত সাজা প্রদান করা হয়।

এবারে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিশেষ আয়োজন নীলিমা ইব্রাহিমের একটি বিরল সাক্ষাৎকার। তাতে বীরাঙ্গনা নারী ও নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র সবিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ১৯৯৭ সালে গ্রহণ করা সাক্ষাৎকারটি বুলেটিনে ছাপানোর অন্যতম কারণ হলো, পাঠক যেন সেই দুঃসহ দিনগুলোর স্মৃতির অংশীদার হতে পারেন এবং মুক্তিযুদ্ধে নারীর অংশগ্রহণ ও ত্যাগের পুনর্মূল্যায়নে সমর্থ হন। এ পর্বে আরো রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত ‘গণহত্যা : সত্য ও ন্যায়বিচার’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০০৯-এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

বরাবরের মতো এবারও আইন-আদালত অংশে থাকছে সামপ্রতিক সময়ের বেশ কিছু মামলার রায় এবং নতুন প্রণীত আইনের পর্যালোচনা। প্রথমে রয়েছে হাইকোর্টে যৌথভাবে আসক-এর দায়ের করা দুটি রিট মামলার খবরাখবর। অতিসমপ্রতি প্রণীত হয়েছে ‘মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯’। এই আইনের ভালো-মন্দ দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে বুলেটিনের লেখাটিতে। বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন হওয়ার দু’বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠানটি সত্যিকার অর্থে কতখানি স্বাধীন হয়েছে- এর পর্যালোচনা করা হয়েছে এখানে। দেশের আইনি সংবাদের বাইরে এবারের আইন-আদালত পর্বে রয়েছে ভারতের হাইকোর্টের একটি যুগান্তকারী রায় এবং পাকিস্তানের পারিবারিক নির্যাতন (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন প্রণয়নের খবর।

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহার- বহুদিনের একটি প্রত্যাশিত ঘটনা। বিষয়টির ওপর তির্যক আলোকপাত করা হয়েছে বুলেটিনের মত-অভিমত পর্বটিতে।


উপদেষ্টা সম্পাদক: হামিদা হোসেন, সুলতানা কামাল, এডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান * সম্পাদক: শাহীন আখতার * প্রচ্ছদ: মনন মোর্শেদ * সহযোগী সম্পাদক: এটিএম মোরশেদ আলম * প্রকাশনা সহযোগী: কানিজ খাদিজা সুরভী * অঙ্গসজ্জা: অনিল চন্দ্র মন্ডল * কম্পিউটার কম্পোজ: মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, রেজায়ানুল হক * ফটোগ্রাফ: আসক, প্রথম আলো ও ইন্টারনেট * মুদ্রক: সাহিত্য প্রকাশ