সম্পাদকীয়
   প্রচ্ছদ-কাহিনী
   আইন-আদালত
   তদন্ত
   বিশেষ রচনা
   মত-অভিমত
   পরিবেশ
   কর্মশালা

   যোগাযোগ
    সম্পাদক, বুলেটিন
    আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
      ২৬/৩ পুরানা পল্টন লাইন
      ঢাকা-১০০০
      ইমেইল- ask@citechco.net,
            publication@askbd.org

সম্পাদকীয়

সব কিছু ছাপিয়ে এখন বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হয়ে উঠেছে খাদ্য সঙ্কট। বিশ্বের সবচেয়ে অভাবগ্রস্ত মানুষগুলোর প্রায় ১৫ কোটির বসবাস যে দেশে, সেখানে একে নেহাত খাদ্য সঙ্কট বললে কমই বলা হয়। এর তাৎক্ষণিক সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা বা অবহেলা যা-ই থাকুক না কেন, নেপথ্যে অন্যতম একটি কারণ হিসেবে বর্তমানে আলোচিত হচ্ছে- উন্নত ও উন্নয়নমুখী দেশগুলোতে জৈব জ্বালানির উত্থানের বিষয়টি। যা বিশ্বের ২০০ কোটি ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যের অধিকারকে মাত্র ৮০ কোটি গাড়িওয়ালা লোকের বিপরীতে এক অনৈতিক প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিচ্ছে। তার ওপর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। দ্রুত ঘনায়মান এ অশনিসঙ্কেত নিয়ে রচিত হয়েছে এবারের প্রচ্ছদকাহিনী "জৈব জ্বালানি ও খাদ্য সঙ্কট"। এ অবস্থা মোকাবেলায় আমাদের কী করণীয়, সরকার কী ভূমিকা পালন করছে বা করতে পারে ইত্যাদি বিষয়ে আমরা কথা বলেছি দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সঙ্গে। গুরুত্ব বিবেচনায় ড. আহমদের সাক্ষাৎকারটিও প্রচ্ছদকাহিনী হিসেবে ছাপা হয়েছে।

এবারকার আইন-আদালতে আলোচিত হওয়ার মতো বিষয় অনেক। তার মধ্যে অন্যতম স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ আইন (ট্রুথ কমিশন) কার্যকর করা হয়েছে গত ৮ জুন। মূলত আর্থিক বিষয়াবলিতে দুর্নীতিগ্রস্ত বড় বড় ব্যবসায়ীর কথা মাথায় রেখে, তাদের দুর্নীতি বিষয়ে স্বেচ্ছাস্বীকারোক্তি ও এর মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে আইনি বিচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই এই কমিশনের প্রতিষ্ঠা। দুর্নীতির দায়ে কেউ গ্রেফতার হয়ে জেলে যাবে, দণ্ডিত হবে আর কেউ ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে দায়মুক্ত হবে- এতে কি ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে দ্বৈতনীতির প্রতিফলন ঘটছে না? তাছাড়া বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় এজেন্ডা (তাদের ভাষায়) দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকেও তা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

জরুরি বিধিমালায় জামিনের বিষয় নিয়ে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। যার ফলে অবসরে যাওয়া ও নতুন দায়িত্বগ্রহণকারী প্রধান বিচারপতিদ্বয়কে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রথামাফিক সংবর্ধনাও দেয়া হয়নি। এই আস্থার সঙ্কট থেকে দেশের আইনব্যবস্থাকে বের করে বিচার বিভাগের পৃথক্‌করণে সার্থকতা প্রমাণ করার দায়িত্ব এখন বিচারক ও আইনজীবী উভয়েরই। উল্লেখ্য, গত ৫জুন জরুরি ক্ষমতার বিধিমালার জামিন ও শাস্তি সংক্রান্ত বিধারগুলোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসক-এর নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল, নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীর ও ঢাবির শিক্ষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বাদি হয়ে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট দায়ের করেন। রিট নম্বর-৪২১৬।

নারী উন্নয়ন নীতি-২০০৮-এর সূত্রে যে কতিপয় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল উত্তরাধিকারে নারীর সম-অধিকারের বিরোধিতা করছে এবং এ ব্যাপারে সরকারের নতজানু অবস্থান- এ নিয়ে রচিত হয়েছে "প্রসঙ্গ নারী উন্নয়ন নীতি-২০০৮"। নারী উন্নয়ন নীতি বা অন্য যে কোনো নীতিমালাই হোক, এ নিয়ে মতবিভেদ দেখা দিলে এর পর্যালোচনা করা বা এ ব্যাপারে মতবিনিময় হওয়া আবশ্যক। তবে তা নারীবিরোধী কোনো পক্ষের সঙ্গে নয়। যারা এর দ্বারা উপকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সেই নারী সমাজের সঙ্গে আলোচনা হওয়াই যে মতবিনিময়ের পূর্বশর্ত, সরকারের এ দিকটি বিস্মৃত হওয়া উচিত নয়। তাতে নারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ন্যায্য পাওনার প্রতিই অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়।