সম্পাদকীয়
   প্রচ্ছদ-কাহিনী
   আইন-আদালত
   তদন্ত
   বিশেষ রচনা
   মত-অভিমত
   পরিবেশ
   কর্মশালা

   যোগাযোগ
    সম্পাদক, বুলেটিন
    আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
      ২৬/৩ পুরানা পল্টন লাইন
      ঢাকা-১০০০
      ইমেইল- ask@citechco.net,
            publication@askbd.org

বিশেষ রচনা

প্রসঙ্গ নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৮
শাহ আফ্রোদিতি পান্না
দেশে একটি নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষিত হয়েছে- এটা বোধকরি এখন আমাদের কারো অজানা নয়। নারী উন্নয়ন নীতি হিসেবে এটি নতুন নয়, এর আগে আমাদের দেশে আরো দুটি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রণীত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষিত হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস'া, নারী অধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ৯৭ সালের নীতিটি প্রণয়ন করা হয়েছিলো (আসক, প্রথম আলো, ১৯ এপ্রিল ২০০৮)।

কিন্ত্বু পরবর্তী সরকার অগণতান্ত্রিক উপায়ে ’৯৭-এর নারী নীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনে গোপনে ২০০৪ সালে নতুন নারী নীতি প্রণয়ন করে। এ নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নারী, মানবাধিকার ও এনজিও সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ আসে। ওই নীতিকে পরিবর্তন করার জন্য বিভিন্নমুখী ও বহুমাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং কয়েক দফা সুপারিশ বিভিন্ন পযার্য়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে একাধিকবার পেশ করা হয়। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছেও এসব সুপারিশ বিভিন্ন সময় পেশ করা হয় (আয়শা খানম, প্রথম আলো, ২৩ মার্চ ২০০৮)। এসবের ধারাবাহিকতায় বৃহত্তর উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে সরকার ৮ মার্চ ২০০৮ তারিখে বিশ্ব নারী দিবসে ঘোষণা দেয় নতুন জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির।

২. নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষণার পরপরই পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়, কয়েকটি ইসলামি সংগঠন ‘নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঘোষিত নারী নীতি’র বিরোধিতা করে এবং এই নীতি বাতিলের দাবি জানায় (সমকাল, সংবাদ, ১২ মে ২০০৮)। তাদের বক্তব্য, নারী-পুরুষ সমান অধিকার পেতে পারে না, পুরুষের মর্যাদা নারীর ওপরে (প্রথম আলো, ১৭ মে ২০০৮)।

কতিপয় ইসলামি সংগঠনের প্রতিবাদের অব্যবহিত পরেই পত্রপত্রিকায়, টিভি খবরে দেখা যায়, আইন উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ওলামাদের সাথে একটি মতবিনিময় সভায় বসেন এবং সেখানে তিনি ‘মুসলিম নারীদের উত্তরাধিকার বিষয়ে কোনো আইন পাস করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা নেই .... উত্তরাধিকার বিষয়ে কোনো আইন সংশোধন করার মানসিকতা সরকারের নেই’ - এই বক্তব্য রাখেন (সমকাল, ১২ মে)। এ সময় তার সাথে সরকারের আরো দু’জন উপদেষ্টা উপসি'ত ছিলেন। তার একদিন পরেই আইন উপদেষ্টা চট্টগ্রামে মুসল্লি পরিষদের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং সেখানেও তিনি অনুরূপ বক্তব্য প্রদান করেন।

ধর্মীয় কয়েকটি দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ আসতে না আসতেই তাৎক্ষণিকভাবে দুটি অনুষ্ঠানে উপসি'ত হয়ে সরকারের উপদেষ্টার পক্ষ থেকে দু’তিনদিন আগে সরকারের নিজেরই ঘোষিত একটি দলিল সম্পর্কে এরকম বক্তব্য দেয়া এবং নমনীয়তা প্রকাশ করায় সবার মনে প্রশ্ন তৈরি করে। কারণ সরকার কোনো কাজ করেছে, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এসেছে, আর সরকারের কোনো মন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে সেখানে হাজির হয়ে প্রতিবাদকারীদের আশ্বস- করেছে বা তাদের দাবি মেনে নিয়েছে সরকারের এমন অবস'ান বাংলাদেশের অতীত ইতিহাসে দেখা যায় না। বরং অধিকাংশ সময় সরকার তার পদক্ষেপ বাস-বায়নের জন্য আরো কঠোর হয়েছে। পাটকল বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকরা যখন আন্দোলন করেছে এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাদেরকে কীভাবে দমন করেছে, তা আমরা জানি। এশিয়া এনার্জির সঙ্গে ফুলবাড়ী কয়লাখনি চুৃক্তি বাতিলের দাবিতে সেখানে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলেছে। কিন' দেশ ও জনগণের বিরোধী চুক্তি বাতিল বা পর্যালোচনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি। বরং এশিয়া এনার্জির পক্ষে সরকারকে সাফাই গাইতে দেখা গেছে। কিন' নারী উন্নয়ন নীতির ক্ষেত্রে সরকারের ভিন্ন ধরনের চেহারা দেখা যায়।

পত্রিকা মারফত জানতে পারি, ‘নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৮’ পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। এ-ও জানতে পারি যে, যারা এই নীতি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন, যারা নারী সম্পর্কে মর্যাদাহানিকর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (পুরুষের মর্যাদা নারীর ওপরে, নারী-পুরুষের সমান অধিকার পেতে পারে না) প্রদান করেছেন তাদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠিত হয়েছে।

৩. একটি নীতি প্রণয়নের পর অবশ্যই সেটির পর্যালোচনা, সেটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকা উচিত। সেটা নিয়ে আপত্তি, মতভেদ দেখা দিলে সে বিষয়ে মতবিনিময়ও হওয়া উচিত। কিন' মতবিনিময় যদি করতে হয় তা হওয়া উচিত এর সাথে যারা সম্পর্কিত অর্থাৎ যারা এর দ্বারা উপকৃত বা ক্ষতিগ্রস- হবে সেই সংশ্লিষ্টদের সাথে। এটাই কোনো আলোচনা বা মতবিনিময়ের পূর্বশর্ত।

ঘোষিত নীতিমালা নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকেই পর্যালোচনার দাবি রাখে। এদেশে নারী আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। নারীরা র্দীঘদিন ধরে তাদের ‘অধিকার আদায়ের’ জন্য আন্দোলন করে আসছে, ‘উন্নয়ন নীতিমালা’র জন্য নয়, উন্নয়ন ছিল দাবির একটা অংশ। এদেশে নারী আন্দোলনের ভিত্তি ছিল অধিকারবোধের চেতনা; যা চিহ্নিত হয়েছে আমাদের সংবিধানে, যার ভিত্তি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ। নারী আন্দোলনের লক্ষ্য কোনোভাবেই উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গির অনুসরণ নয়। উত্তরাধিকারসহ সব সম্পত্তিতে সমান অধিকারের জন্য নারীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করছে। কিন' সরকারের ঘোষিত এ নীতিমালায় উত্তরাধিকার সম্পর্কে কোনো কিছু বলা হয়নি। তারপরও নারী আন্দোলনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষিত এ নীতিমালাকে স্বাগত জানিয়েছে, অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এ নীতিমালাকে সরকারের গৃহীত একটি পদক্ষেপ হিসেবে।

৪. কতিপয় ইসলাম নামধারী দল নারী উন্নয়ন নীতির বিরোধিতা করছে ধর্মের কথা বলে। তাদের দাবি, নারীর স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের সমান অধিকার ইত্যাদি ইসলামধর্ম বিরোধী। তাহলে তো ইসলামের মূল দর্শন যে মানুষে মানুষে সাম্য, মানবতার মুক্তি, তারা উপরোক্ত ভাষ্যের মাধ্যমে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছেন। একদল মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, একদল মানুষের সাথে আরেকদল মানুষের বৈষম্য বজায় রেখে মানবতার মুক্তি কি আদৌ সম্ভব? এ প্রশ্ন যে কোনো চিন-াশীল মানুষের মনে তৈরি হবে। আসলে নারী উন্নয়ন নীতির বিরোধিতার প্রকৃত কারণ যে ধর্ম নয়, এটি যে ভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডা- এটা অনুধাবনের জন্য গভীর বিশ্লেষণের যাওয়ার দরকার পড়ে না।

নারীর প্রশ্নে ধর্মে দোহাই যত বেশি আসে পুরুষের বেলায় ততটুকু আসে না। সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা কেবল বর্তমানে তথাকথিত ইসলামি দলগুলোই করছে না। এর আগেও হিন্দু নারীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা উঠেছে, তখনও এটাকে হিন্দু ধর্মের বিরোধী বলে এর বিরোধিতা করা হয়েছে। কিন' আমাদের পার্শ্ববর্তী হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারতে নারী-পুরুষের সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। একইভাবে ইরাক, সোমালিয়া, মরক্কো, তিউনেসিয়ার মতো মুসলিম দেশে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত আছে।

নারীর স্বাধীনতা, গতিবিধি, অধিকার ইত্যাদি প্রশ্নে ধর্মকে বরাবরেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘নারী ও সম্পত্তির প্রশ্ন এলে ধর্মকর্মের সঙ্গে যোগাযোগ থাকুক বা না থাকুক অধিকাংশ পুরুষের যুক্তি এক জায়গায় মিলে যায়। সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারসূত্রে নারীকে সমানাধিকার দেয়া হলে যে আপাতদৃষ্টে ক্ষতিগ্রস- হবে সে পুরুষ’ (প্রথম আলো, ২৪ এপ্রিল ২০০৮)। কিন' উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে মেয়েদের সমান অধিকার না থাকার ফলে মেয়েরাই শুধু বঞ্চিত হচ্ছে তা না, পরিবারও ক্ষতিগ্রস- হচ্ছে। বর্তমানে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাদের কেবল দুটি বা একটি কন্যা সন-ান। মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, ছেলে সন-ান না থাকলে সম্পত্তির একটা বড় অংশ মেয়ে সন-ানের পরির্বতে ভাই বা ভাইয়ের ছেলেরা পেয়ে থাকে। কিন' কোনো বাবা-মা-ই চান না তাদের কষ্টে অর্জিত সম্পত্তি তাদের সন-ান না পেয়ে অন্যের হাতে চলে যাক। বর্তমান পরিসি'তিতে এ উত্তরাধিকার আইনের কারণে সম্পত্তির বিষয়টি নিয়ে কন্যা সন-ানের পিতা-মাতার মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ, অসহায়ত্ব বোধ দেখা যায়।

৫. পৈতৃক সম্পত্তিতে মুসলিম মেয়েদের সমান অধিকার না পাওয়ার পক্ষে একটি যুক্তি শোনা যায়, তাহলো মেয়েরা পিতার কাছ থেকেও পায় আবার স্বামীর কাছ থেকেও পায়, আবার বিয়ের সময় মোহরানার টাকা পায়। এভাবে কার্যত একজন নারীর সম্পত্তি একজন পুরুষেরই সমান হয়ে যায়। এখন মেয়েরা যদি পিতার সম্পত্তিতে সমান ভাগ পায় তাহলে তো একজন নারীর সম্পত্তি একজন পুরুষের থেকে অনেক বেশি হয়ে যাবে। কিন' স্বামী কি স্ত্রীর কাছ থেকে সম্পত্তি পায় না? পায়, একজন স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তি থেকে যতটুকু পায়, একজন স্বামী তার স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে তার দ্বিগুণ পায়। মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ ভাগ পায়, আর স্বামী পায় স্ত্রীর সম্পত্তির ১/৪ভাগ অর্থাৎ স্বামী পায় দ্বিগুণ। অথচ স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রী সম্পত্তি পায় এটা যত বেশি শোনা যায়, স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামী সম্পত্তি পায় এটা আমরা খুব একটা শুনতে পাই না।

উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তিতে মেয়েদের সমান অধিকার না থাকার পেছনে একটি বড় ধরনের প্রচলিত যুক্তি হলো, মেয়েদের তো বাবা-মার দায়িত্ব নিতে হয় না, মেয়েদের ভরণপোষণের দায়িত্ব ছেলেদের ইত্যাদি। মেয়েদের শ্রমকে কেন্দ্র করে যে গার্মেন্টস শিল্প আমাদের গড়ে উঠেছে- সেই গার্মেন্টসের সিংহ ভাগ মেয়েই তাদের উপার্জিত অর্থ পরিবারের হাতে তুলে দেন। তাদের আয়ে কত পরিবার টিকে আছে সেই পরিসংখ্যান আমরা চাইলেই জানতে পারব। এমন মেয়েদের সংখ্যাও অনেক আছে যারা পরিবারের দায়িত্ব পালনের জন্য, ভাইবোনের পড়ালেখার জন্য অনেকদিন বিয়ে পর্যন- করেননি। এমন মেয়েও আছেন যারা পরিবারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে নিজের সংসার ভেঙেছেন। শুধু মা-বাবা, ভাইবোন নয়, মেয়েরা উপার্জন করে নিজের সংসার এবং সন-ানের খরচ চালাচ্ছেন। কিন' পরিবারে একজন ছেলের এই ভূমিকাগুলো সমাজে প্রতিষ্ঠিত, অথচ একজন মেয়ের এই ভূমিকা সমাজে স্বীকৃত নয়।

নারীর অর্থনৈতিক অবদান কেবল পারিবারিক বা ব্যক্তি জীবনে নয়। আমাদের জাতীয় আয়ের প্রধান দুটি উৎসের একটি হলো বিদেশ থেকে শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ এবং অন্যটি গার্মেন্টস শিল্প। গার্মেন্টস শিল্প টিকে আছে মেয়েদের শ্রমের ওপর এটা আমাদের কারো অজানা নয়। আর বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই নারী শ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৪২.৩% (ইমতিয়াজ আহমেদ, সাপ্তাহিক ২০০০)। এটা হলো তথ্যে উল্লিখিত হিসাব। কিন' সমাজে, অর্থনীতিতে নারীর প্রকৃত শ্রম, অবদান উল্লিখিত নয়। নারীর প্রকৃত শ্রম-অবদান বিবেচনায় আনতে হবে প্রতিদিন গৃহে, কৃষিক্ষেত্রে সন-ান লালন- পালনে নারী যে শ্রম দিচ্ছে তাকে শ্রমঘণ্টার মাধ্যমে হিসাব করে। সরাসরি অর্থনৈতিক আয় বাদ দিয়ে প্রতিদিন গৃহে, কৃষিক্ষেত্রে, সন্তান লালন-পালনে নারীর শ্রমঘণ্টা হিসাব করলে তা গড়ে পুরুষের থেকে অনেক অনেক বেশি।

৬. বৈষম্যের শিকার হয়ে ’৭১-এ এদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য, অধিকার আদায়ের জন্য দাবি তুলেছে, সংগ্রাম করেছে। এটা কোনো আবেদন বা নিবেদনের বিষয় ছিল না। পরিবারসহ রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধায় নাগরিক হিসেবে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা - নারীর পাওনা, ন্যায্য দাবি; এটা কোনো দয়া বা