সম্পাদকীয়
   প্রচ্ছদ-কাহিনী
   আইন-আদালত
   তদন্ত
   বিশেষ রচনা
   মত-অভিমত
   পরিবেশ
   কর্মশালা

   যোগাযোগ
    সম্পাদক, বুলেটিন
    আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
      ২৬/৩ পুরানা পল্টন লাইন
      ঢাকা-১০০০
      ইমেইল- ask@citechco.net,
            publication@askbd.org

কর্মশালা

ভারতের হিমাচলের এক কর্মশালায় কয়েকদিন
বাসবী বড়ুয়া
হিমাচল প্রদেশের শান্ত, ছোট, রাক্কার গ্রামে আয়োজিত হয়ে গেল যৌনতা র ওপর ৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ দিনের এক কর্মশালা। যৌথভাবে আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার কারতিনি নেটওয়ার্ক ও ভারতের জাগরি। দক্ষিণ এশিয়ার সানগাত (SANGAT)-এর সদস্য আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং আমার কর্মস'ল, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে কর্মশালায় আমার অংশগ্রহণ। এখানে ১১টি দেশের ২১ জন নারী কর্মশালায় আমন্ত্রিত হন। রাক্কার গ্রামটি সিধবাড়ি অঞ্চলের চাক্কি নদীর তীরে। ৬ এপ্রিল রাতে দিল্লি থেকে ট্রেনে চেপে চাক্কি ব্যাংক নামক স্টেশনে পৌঁছলাম সকাল ৮টায়। এরপর পাহাড়ি মনোরম পথে গাড়িতে গন-ব্যস'লের দিকে যাত্রা। সেখানে পৌঁছতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগে গেল। পথের বাঁকে বাঁকে প্রকৃতি তার সমস- সৌন্দর্য মেলে ধরেছে। পুুরোটা অঞ্চলজুড়ে বিশাল আর সৌম্য তুষার আচ্ছন্ন হিমালয়ের পাহাড়শ্রেণী। এই যাত্রায় আমাদের সঙ্গী ছিলেন কর্মশালার আবাসিক প্রশিক্ষক এবং কার্তিনি নেটওয়ার্কের সেক্সুয়ালিটি থিম-এর অন্যতম প্রধান হল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব সোশাল সায়েন্সের অধ্যাপক সাসকিয়া ভিরিঙ্গা এবং দক্ষিণ এশিয়ার সুপরিচিত নারীবাদী সংগঠক কমলা ভাসিন। ভেন্যুতে পৌঁছালে আমাদের স্বাগত জানান কর্মশালার মূল সংগঠক জাগরির নির্বাহী আভা ভাইয়া এবং তার সহকর্মীবৃন্দ। সমবেত সঙ্গীত, গোলাপ আর ঐতিহ্যবাহী হিমাচলি টুপি প্রত্যেককে উপহারের মাধ্যমে শুরু হয় পরিচয় পর্ব। এরপর কর্মশালার উদ্দেশ্য ও অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা জানা হলো। এখানে উল্লেখ্য, অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশের বয়স ছিল ২২ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। একদল নবীন, তরুণ নারীবাদী কর্মী, সংগঠক ও প্রশিক্ষক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যের কথা আয়োজকরা জানালেন।

প্রশিক্ষণটি ১০টি সেশনে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি সেশনে অংশগ্রহণকারীর ব্যক্তিগত, সাংগঠনিক এবং দেশীয় পরিসি'তির আলোকে বিষয়গুলো গ্রথিত করা হয়। এই উপস্থাপন পদ্ধতির কারণে একটি আন-রিক সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতার বিনিময় ঘটে।

কর্মশালার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যৌনতা, বি-সমকামিতার আদর্শায়ন এবং যৌনতা প্রকাশের নিয়ন্ত্রণের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস'াগুলোকে নারীবাদী প্রশিক্ষণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা। এই নারীবাদী প্রশিক্ষণ বিষয়টির নীতিগুলো কী? এক্ষেত্রে এ ঘরানার প্রশিক্ষকেরা ব্রাজিলের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ পাওলো ফ্রেইরির অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিকে [Participatory Method] ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে সেখানে লিঙ্গভিত্তিক বাস-বতার অভিজ্ঞতাগুলো সংযুক্ত করেন। তারা এই প্রশিক্ষণের কিছূ মূল নীতিনির্ধারণ করেছেন যেমন: ক. শরীর হচ্ছে নিজ এবং অপরকে জানার এবং অনুধাবনের প্রথম মাধ্যম।

খ. সত্য নিরপেক্ষ অথবা সর্বব্যাপী নয়, বরং এটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিঃসৃত তাই তাত্ত্বিক ধ্যানধারণা ব্যক্তির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জন্ম লাভ করে। গ. লিঙ্গ প্রত্যয়টি সব ক্ষমতা সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত যেমন- শ্রেণী, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, প্রতিবন্ধিত্ব, ধর্ম, বিসমকামিতার আদর্শায়ন, বৈবাহিক অবস'া ইত্যাদি। ঘ. নারী, পুরুষ, বিসমকামী, সমকামী, রূপান-রকামী এই পরিচয়গুলো একটি একক, সি'র পরিচয় বহন করে না। ঙ. বৈচিত্র্য এবং ভিন্ন পরিচয়কে সম্মান জানাতে হবে এবং আমাদের বর্ণিল অভিজ্ঞতার সমজাতীয়তা এবং সমরূপ দেখানোর প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

কর্মশালার বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল যৌনতা সম্পর্কে ব্যক্তিগত ও সামাজিক চর্চিত মূল্যবোধ ও ধারণাগুলোকে কোনো একটি একক জ্ঞানকাণ্ড (epistemology) থেকে না দেখে সামষ্টিক চিন-নপ্রক্রিয়া ও প্রায়োগিক কাঠামোর মাধ্যমে প্রশ্ন করা এবং এই সচেতন প্রয়াস হবে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধনের লক্ষ্যে বিশেষভাবে পরিচালিত। এই লেখায় স'ানাভাবে সব আলোচিত বিষয়গুলো তুলে দেয়া সম্ভব না হওয়ায়, নতুন চিন-ার উদ্রেককারী প্রাসঙ্গিক দুটি বিষয় বেছে নিচ্ছি।

পতিতাবৃত্তি নিয়ে কিছু প্রশ্ন
এটি খুবই অদ্ভুত যে পতিতা বা ইংরেজি Whore শব্দের আদি অর্থ ছিল প্রেমিক। বর্তমানে অচ্ছুত হিসেবে গণ্য হলেও প্রাচীন গ্রিক ও ভারতীয় সমাজ-সভ্যতায় তারা অপেক্ষাকৃত সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক কলায় তাদের পারদর্শিতার কারণে সমাজে তাদের সমীহ ও সমাদর দুটোই ছিল। কিন্ত্বু ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ভারতীয় সমাজে নৈতিকতাবিকৃতির ধুয়া তুলে তাদের বৃত্তিকে অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেয়। বিংশ শতাব্দীর নারীবাদী আন্দোলন এ বিষয়ে তাদের কিছু ভিন্ন মতামত তুলে ধরেন, যার ফসল পতিতা থেকে যৌনকর্মী হিসেবে তাদের প্রতিষ্ঠা। কর্মশালায় এ বিষয়ের অধিবেশনে প্রচলিত তিনটি চলমান বিতর্ক তুলে ধরা হয়। নৈতিকতাবাদীরা যৌন পেশাকে সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর হিসেবে আখ্যা দিয়ে এটিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে। তারা এইচআইভি এইডস প্রতিরোধে যৌনকর্মীদের প্রধান অন্তরায় হিসেবে মনে করেন। অন্যদিকে ভিন্নমতগুলো হলো, এইডস প্রতিরোধে সমাজের যৌনতা নিয়ে বদ্ধ দরজাগুলো খুলে দিতে হবে। শুধু কয়েকটি প্রানি-ক গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের আরো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়ে রাষ্ট্রের অনুকম্পাসুলভ তথাকথিত পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় জোরপূর্বক বাধ্য করার প্রশ্নগুলো অবশ্যই ভাবতে হবে।

তাহলে যৌন পেশাকে আইনি বৈধতা দেয়াই কি এই সমস্যার সমাধান? ইউরোপের কিছু দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এর ফলে যৌনকর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রের খবরদারি, নজরদারি দ্বিগুণ বেড়ে যায়। বৈষম্য তৈরি হয় রেজিস্ট্রিকৃত এবং অরেজিস্ট্রিকৃত যৌনকর্মীদের মধ্যে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র যৌন পেশাকে সীমাবদ্ধ করার জন্য আইনি বৈধতার কৌশলের আশ্রয় নেয়।

তৃতীয় যে মতামত, সেটি মূলত যৌনকর্মীদের ভেতর থেকেই উঠে এসেছে। তারা চান বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যৌন পেশাকে যেভাবে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এর বিলোপ সাধন। এক্ষেত্রে তারা একটি স্বনিয়ন্ত্রিত কাঠামো (Self Regulatory Board) প্রস্তাব করছেন, যেখানে সরকারি, বেসরকারি ও তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি সমান অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব করবে।

কর্মশালায় প্রতিটি দেশের যৌনকর্মীদের সার্বিক পরিস্থিতি উপস্থাপনের পর বিতর্কগুলো নিয়ে প্রানবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই সেশনটি পরিচালনা করেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নারীবাদী কর্মী ও তাত্ত্বিক নিবেদিতা মেনন।

পর্নোগ্রাফি
কর্মশালার আরেকটি চমকপ্রদ এবং বিতর্কে ভরপুর পর্ব ছিল পর্নোগ্রাফি বিষয়ক আলোচনা। দেশ, কাল, স্থান নিরপেক্ষ নিশ্চল নৈতিকতাসঞ্জাত পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞা নির্ধারণে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়ে গেছে। কার কাছে কোনটা অশ্লীল তার কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড খুঁজে পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে ক্ষমতাবান গোষ্ঠীই মাপকাঠি তৈরি করে এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ বিষয়ে নারীবাদী শিবিরও স্পষ্টত দুটো ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পর্নোগ্রাফি-বিরোধীরা বলছেন, অশ্লীলতা হচ্ছে তত্ত্ব, ধর্ষণের প্রয়োগ (মর্গান ১৯৮০)। এবং তারা এ বিষয়ে সsেন্সরশিপের প্রয়োগ চান। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে যারা রয়েছেন, তারা মনে করেন এই ধরনের আইন অথবা যে কোনো ধরনের সেন্সরশিপ মতামত প্রকাশের অন্তরায়। নারী দেহ এবং এর সঙ্গে প্রচুর মুনাফা যুক্ত হওয়ার ফলে বিষয়টি ধোঁয়াশায় পরিণত হয়েছে।

গীতি থাডানি: নারীশক্তির স্মৃতির সন্ধানে এক ব্রতচারী
কর্মশালার চোখ খুলে দেয়ার মতো সেশনটি ছিল গীতি থাডানির। গত পঁচিশ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাচীন স'াপত্য, মন্দির, চিত্রমালা, গ্রন' এবং মৌখিক ইতিহাসের সূত্র থেকে নারীর প্রতীকী ভাষার এবং ঐতিহ্যের সন্ধানে ব্যাপৃত আছেন। ভারতীয় প্রাচীন মন্দিরের কেন্দ্রবিহীন উন্মুক্ত স'াপত্যরীতি, যোনিমূলের সাধনা, অর্ধনারীশ্বর মূর্তি বিশ্লেষণ করে তিনি উপস্থাপন করেন ভারতীয় দর্শন যৌনতার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ দ্বৈত বিভাজনে নয় বরং বহুসত্তার প্রকাশকে ঠাঁই দিয়েছে। স'ানীয় এক মন্দির পরিদর্শনে তিনি আমাদের বাস-বিকভাবে দেখান কীভাবে যোনিমন্দির পাথরচাপা দিয়ে শিবমন্দিরে রূপান-রিত করা হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত করা হচ্ছে। মূল মন্দির থেকে সেটি নিচে ঝর্ণার ধারে অবসি'ত, যেখানে রীতিমত হামাগুড়ি দিয়ে জামাকাপড়ে কাদাজল লাগিয়ে দেখার সুযোগ মেলে।

শেষের কথা
কর্মশালার প্রতিটি দিনই ছিল আনন্দ, উত্তেজনা, ভালোবাসা ও আবেগে ভরপুর। যে সংবেদনশীলতা, খোলামেলা, সর্বোপরি বিশ্বাস ও আস্থা পরিবেশ প্রয়োজন তার সবটুকু নিশ্চিত হওয়ার কারণে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী যৌনতা সম্পর্কিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা অকপটে কর্মশালায় বিনিময় করেন। প্রতিটি দিনেই ছিল ছবি দেখানোর অধিবেশন যার ওপরে পরের দিন আলোচনা করা হতো। মাঝে একদিনের পুরোটাই ছিল অবসরের জন্য। সেদিন আমরা আতিথেয়তা গ্রহণ করি জার্মান-অস্ট্রিয়ান দম্পতি ফেলিসিটাস-জ্যাকবের সমতল থেকে দুই হাজার ফুট উঁচু বাড়িতে। আসার পথে ধর্মশালা, দেখা মিলল রাস্তায় এখানে আশ্রয় নেয়া তিব্বতিদের মোমবাতি নিয়ে চীনবিরোধী শানি-পূর্ণ মিছিল। ফাঁকে ফাঁকে আমরা বেড়িয়ে আসি রাক্কার গ্রামের এখানে- ওখানে ছড়িয়ে থাকা সৌন্দর্যখনিতে। আমাদের পরিচয় ঘটে আরও তিনজন চমৎকার নারীর, তারা হলেন- ডা. বারবারা যিনি ভারতে এসেছিলেন সাধক প্রেমিকের টানে, এখন নিষ্ঠা নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন, আরেকজন কিশোয়ার, প্রায় ষাটোর্ধ্ব এই নারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে কাউন্সেলিংয়ে জড়িত আছেন বারবারার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। কিশোয়ারের আরেকটি উদ্যোগ একক নারীদের সংগঠিত করা। আর আছেন ফেলিসিটাস যার পেশা নিজের জিপে করে পর্যটকদের হিমালয় পরিদর্শন করানো।

কর্মশালার শেষদিনে গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং অ্যাডভোকেসি এই তিনভাগে প্রত্যেকের ইচ্ছানুযায়ী বিভক্ত করে সামনের দিনগুলোতে কে কীভাবে কাজ করতে পারে, বিষয়টিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে- সে বিষয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়। অন্যান্য মানবিক অধিকারের মতো যৌনতার অধিকার নিশ্চিত করতে এর সনদটি অর্থাৎ Sexual Charter কেমন হওয়া উচিত এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এরপর ফেরত আসার পালা।

পিআইএল রিভিউ কর্মশালা ২০০৮
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর আয়োজনে গত ২৮-৩০ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো পিআইএল রিভিউ কর্মশালা ২০০৮। বাংলাদেশে জনস্বার্থ মামলার ক্রমবিকাশ, সমস্যা ও সম্ভাবনা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে ৭টি সংগঠন ও জনস্বার্থ মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের নিয়ে এই +ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়। মূল আয়োজক আসক-এর সাথে সহযোগী সংগঠন হিসেবে ছিল বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও উত্তরণ। এছাড়া অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), ব্র্যাক, এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্মস এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও মাদারীপুর লিগ্যাল এইড এসোসিয়েশন (এমএলএএ)।

২৮ মার্চ সূচনা পর্বে ওয়ার্কশপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, বাংলাদেশে জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষাপট ও উচ্চ আদালতের ভূমিকা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়। প্রথম অধিবেশনে আলোচিত হয় বিদ্যমান জনস্বার্থ মামলার বিভিন্ন ইস্যু, মামলার অগ্রগতি ও সমস্যা।

২৯ মার্চ সকালের অধিবেশনে বাংলাদেশে জনস্বার্থ মামলার ক্রমবিকাশ ও বর্তমান সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং ভোক্তা অধিকার, পরিবেশ সংক্রান- মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তী অধিবেশনে পিআইএল-এর সম্ভাব্য কিছু ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। এ পর্যায়ে ভূমি অধিকার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি অধিকার এবং সামগ্রিক মানবাধিকার পরিসি'তি, দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ি চাষ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, আর্সেনিক সমস্যা, নদীর নাব্যতা হ্রাসের ফলে সৃষ্ট সমস্যা এবং এই অঞ্চলের পানি সম্পদ ব্যবস'াপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো আলোচিত হয়। এছাড়া শ্রমিক নিরাপত্তা ও পিআইএল-এর ক্ষেত্র সমপ্রসারণ এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সামষ্টিক প্রতিকারের নতুন পন্থা হিসেবে নিম্ন আদালতে পিআইএল-এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

৩০ মার্চ, পিআইএল-এর সাথে সম্পৃক্ত আইনজীবী ও সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কী কী বাস্তব সমস্যা আছে এবং সেগুলোকে সমাধান করে কীভাবে এ সমন্বয় আরও সংহত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ আলোচনায় সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীন সীমাবদ্ধতা ও বাহ্যিক প্রতিকূলতা- দুটো দিকই অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়নে উঠে আসে। এরপর এই কর্মশালায় আলোচিত ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারিত হয়।