সম্পাদকীয়
   প্রচ্ছদ-কাহিনী
   আইন-আদালত
   তদন্ত
   সংবাদ সম্মেলন
   মত-অভিমত
   কর্মশালা
   ফলোআপ
   তথ্যচিত্র

   যোগাযোগ
    সম্পাদক, বুলেটিন
    আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
      ২৬/৩ পুরানা পল্টন লাইন
      ঢাকা-১০০০
      ইমেইল- ask@citechco.net,
            publication@askbd.org

সম্পাদকীয়

২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে রুয়ান্ডা সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল থিওনেস্টে বাগোসোরাসহ সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনাল। এ বছরেরই ২১ জুলাই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন রাদোভান কারাজ্জিচ। বসনিয়ায় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত এই প্রাক্তন সার্ব নেতা বর্তমানে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল যুগোশ্লাভিয়া ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি। এছাড়াও এ রকম আরো দুটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল- স্পেশাল কোর্ট ফর সিয়েরালিওন ও এক্সট্রা অর্ডিনারি চেম্বার, কম্বোডিয়া এখন কাজ করে যাচ্ছে।
গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত স্থায়ী বিচারালয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) উগান্ডা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং সুদানের দারফুর ঘটনার মোট চারটি মামলা বিচারাধীন আছে। অন্যদিকে পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতার সময় ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সেখানে গণহত্যা চালানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিচারের দাবিও জোরালো হয়ে উঠছে। অর্থাৎ বর্তমান সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে জাতি-ধর্ম-রাষ্ট্র নির্বিশেষে এক ধরনের আন্তর্জাতিক সদিচ্ছা ও ঐকমত্য গড়ে উঠেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরের ন্যুরেমবার্গ ও টোকিও ট্রাইব্যুনালের পর আর কখনো ঘটতে দেখা যায়নি।
যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যার বিচারের পালে যখন বৈশ্বিক হাওয়া প্রবল হয়ে উঠছে, তখন বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে ঠিক তার বিপরীত চিত্র। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দল থেকে প্রার্থী হয়েছে ৪৪ জন যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তা অনেকটাই স্তিমিত। রাজনৈতিক দলগুলোর এ সংক্রান্ত কোনো জোরালো অঙ্গীকার চোখে পড়ছে না। সেই প্রেক্ষিত বিবেচনায় আমাদের এবারের প্রচ্ছদ-কাহিনী ‘যুদ্ধাপরাধের বিচারে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশের জন্য পথনির্দেশ’। এছাড়াও রয়েছে, দেশের অন্যতম বৃহৎ চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বধ্যভূমিতে ইউএসটিসি নামক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো একটি প্রতিবেদন।
এবারের আইন-আদালত পর্বে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্মস্পর্শী মামলাবৃত্তান্ত। প্রথমটি একটি খুনের মামলায় আসল আসামির পরিবর্তে জাহাঙ্গীর আলম সরকার নামের এক নিরপরাধের প্রায় সাড়ে ৩ বছর জেল খাটার ঘটনা। পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতা ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় মানুষের ভোগান্তি আর সর্বস্বান্ত হওয়ার এক প্রামাণ্য দলিল এই লেখাটি। অপরটি ডা. হুমায়রা আবেদীনের কাহিনী। যা মনে করিয়ে দেয়- শিক্ষা, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতাও নারীর জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে যথেষ্ট নয়। এছাড়া অন্য বিষয়গুলো হচ্ছে- যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থেকে জাবি শিক্ষকের অব্যাহতির আদেশ কেন অবৈধ নয় এবং র‌্যাব কর্তৃক আটক ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করা এবং বিষাক্ত জাহাজ কাটা বন্ধ করতে হাইকোর্টের জারি করা রুল এবং মৃত্যুদণ্ড বিলোপ নিয়ে একটি নিবন্ধ। অন্যটি হচ্ছে-দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালতের ন্যূনতম পরিমাণ পানি পাওয়াকে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার ঘোষণা সংবলিত মামলার পর্যালোচনা। এই মামলার সিদ্ধান্ত ও মর্মার্থ বিশ্বের পানিসম্পদকে নিয়ন্ত্রণে তৎপর বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতি একটি সতর্কবার্তা বহন করছে বলে অনেকের বিশ্বাস।
এবারের বুলেটিনের আরেকটি সমৃদ্ধ অংশ ‘মত-অভিমত’। এতে একদিকে আছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ২০০৮-এর দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের নির্বাচন করা সংক্রান্ত বিধানের তির্যক সমালোচনা। দ্বিতীয় লেখাটিতে রয়েছে, প্রতিদিনকার যাপিতজীবনে নারীরা যেসব বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন- সম্যক অভিজ্ঞতালব্ধ তার কিছু বিবরণ। অন্য লেখাটি হলো, বাংলাদেশে ক্রমে বিস্তার ঘটতে থাকা সাইবার পর্নোগ্রাফি এবং তা রোধের পন্থা খোঁজার ওপর একটি দৃষ্টি আকর্ষণী রচনা।