কর্মশালা
ইএসডিআর
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়ন অধিকার এবং
সুশাসন প্রতিষ্ঠার এক ব্যতিক্রম প্রয়াস
তাবাসসুম মখ্দুমা
নিজের অধিকার রক্ষার তাগিদে আন্দোলন-সংগ্রাম করার অধিকার যেমন সবার থাকা উচিত, ঠিক একইভাবে পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার পাওয়ার অধিকারও সবার থাকা দরকার। কিন্তু এই দুই ধরনের অধিকার মানবাধিকার হওয়া সত্ত্বেও এদের মধ্যে কোনটা আগে বা কোনটা পরে আসা উচিত অথবা কোনটা অধিক গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটা কম গুরুত্বপূর্ণ কিংবা এই দুই ধরনের অধিকারের মাঝে আদৌ ‘আগে’, ‘পরে’, ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ এই শব্দগুলো আসা উচিত কিনা তা নিয়ে দ্বন্দ্বের যেন শেষ নেই। যেমন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার দুটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নামে আখ্যায়িত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারগুলোকে স্থান দেয়া হয়েছে এবং স্পষ্টভাবে উল্ল্লেখ করা হয়েছে, এই অধিকারগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করা যাবে না। অন্যদিকে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার নামে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারগুলোর স্থান হয়েছে এবং এই অধিকারগুলো খর্ব হলে আদালতের মাধ্যমে তার প্রতিবিধান করার অধিকারও সংবিধানে সবাইকে দেয়া হয়েছে। মৌলিক চাহিদা বলতে আমরা যা বুঝাই সেই অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মানুষের ন্যূনতম সব আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের স্থান হয়েছে কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে, চাইলেও তাকে আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার বলতে পারি না। কারণ আমাদের সংবিধানই এসব অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করে না। যে দেশের মানুষের নেই পর্যাপ্ত পরিধেয় বস্ত্র, খাদ্য, মাথা গোঁজার ঠাঁই, যে দেশে শিক্ষা ও চিকিৎসা অনেকাংশেই গণ্য হয় বিলাসিতা হিসেবে, সে দেশের মানুষের কাছে কথা বলার অধিকার কিংবা চিঠিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারের মতো রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারের অধিকারী হওয়াটা সত্যিকার অর্থে কতোটা গুরুত্ব বহন করে? এই চিত্র শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের আরও অনেক দেশেরই ।
আর্থ-সামাজিক ও উন্নয়ন অধিকার এবং সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কেন এদের মৌলিক অধিকাররূপে স্বীকৃতি দেয়া উচিত তা নিয়ে নেপালের নাগরকোটে ১৬ অক্টোবর ২০০৭- নভেম্বর ২০০৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। 5th Winter Residential School on Economic, Social and Development Rights, and Good Governance, সংক্ষেপে যা ইএসডিআর নামেই অধিক পরিচিত। যৌথ আয়োজক কাঠমান্ডু স্কুল অব ল (কেএসএল) এবং সাউথ এশিয়ান ল স্কুল্স ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস এডুকেশন (স্যালস্ ফোরাম)। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে একজন ছাত্রী আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দু’জন ছাত্র ও আমি শিক্ষার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করি।
স্বাগতিক নেপালসহ বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড এবং চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী ব্যক্তিবর্গসহ মোট ৪৬ জন নারী ও পুরুষ এই স্বল্পকালীন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অধিকাংশই আইনের ছাত্রছাত্রী। তবে আরও ছিলেন মানবাধিকার ও সাংবাদিকতা পড়ুয়া শিক্ষার্থী, ছিলেন নেপালের ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের মানবাধিকার কর্মী এবং নেপালের ন্যাশনাল পুলিশ একাডেমির কর্মরত পুলিশ।
১৬ অক্টোবর তিন সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন করেন নেপালের ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের সভাপতি, নেপাল সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি কেদারনাথ উপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নেপাল বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিশ্বকান্ত মেইনালি, নেপালের অ্যাটর্নি জেনারেল রাঘব লাল বৈদ্য, কেএসএল অধ্যক্ষ ড. যুবরাজ সাংরোলা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন প্রফেসর মোঃ জাকির হোসেনসহ বিশিষ্ট অতিথিবর্গ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএসএলের সহযোগী অধ্যাপক গীতা পাঠাক সাংরেলা। তিনি এই পুরো আয়োজনের বিভিন্ন উল্ল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেন। এছাড়া প্রধান অতিথিসহ মঞ্চে উপবিষ্ট- সম্মানিত শিক্ষক ও বিশেষ অতিথিবৃন্দের সবারই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য, প্রত্যাশা এবং মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়ন অধিকার এবং সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাসে চেপে সোজা আমাদের পরবর্তী তিন সপ্তাহের আবাসিক নিবাস, নাগরকোটের ‘সেন্ট্রাল হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইউনিট’-এ।
পরদিন ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে গেল হাতে-কলমের প্রশিক্ষণ। বাংলাদেশ-নেপাল ও ভারতের আবাসিক প্রশিক্ষকদের পাশাপাশি ছিলেন জাপান, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, ছিলেন বিভিন্ন দেশের গবেষক, মানবাধিকার ও উন্নয়ন কর্মী, বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকর্তা যারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আলোকে তুলে ধরেন আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন অধিকারের গুরুত্ব, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুশাসনের ভূমিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোয় সুশাসনের অভাবের কারণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দারিদ্র্যে জর্জরিত অধিকার বঞ্চিত মানুষের অবস্থা ইত্যাদি। প্রতিদিন বিভিন্ন সেশনে কর্মশালা ও সিম্পোজিয়ামের পর মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক দলীয় ও বিভিন্ন দেশীয় উপস্থাপনার পর বিশেষজ্ঞ, আবাসিক প্রশিক্ষক ও অন্য অংশগ্রহণকারীদের মন্তব্য ইত্যাদির মাধ্যমে উঠে আসছিল বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা, যেগুলো মানুষকে সত্যিকার অর্থে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। শুধু তাই নয়, এখানে আরও আলোচিত হয় অধিকার ও মৌলিক সুবিধাবঞ্চিত বিভিন্ন দেশের আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের কথা, এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ, দাতা সংস্থাগুলোর ভূমিকা কী হওয়া উচিত ইত্যাদি।
পুরো তিন সপ্তাহের প্রতিটি দিনই ছিল মুক্ত আলোচনা, রাত জেগে কর্মশালা ও সিম্পোজিয়ামের পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত করার উত্তেজনা আর সেই সাথে আড্ডা, ভোরে উঠেই প্রেজেন্টেশনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি, এরপর কর্মশালা ও সিম্পোজিয়ামের দলীয় রিপোর্ট তৈরির তাড়াহুড়ো। সমমনা এই মানুষগুলোর একটাই যেন উদ্দেশ্য, আর্থ-সামাজিক ও উন্নয়ন অধিকার এবং সুশাসন বাস্তবায়নের মাধ্যমে পৃথিবীকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য আবাসস্থলে পরিণত করা।
তবে এসব কাজের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনায় ভরপুর ছিল মাঠ পর্যায়ে গবেষণা করা। একদিনের এই গবেষণায় নাগরকোটের তেলকোট গ্রামে শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর অংশগ্রহণকারীরা জরিপ ও গবেষণা করে বোঝার চেষ্টা করে এসব অধিকার ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অবস্থা। এসব মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কী করণীয় তা ফুটিয়ে তোলা হয় গবেষণা রিপোর্টে।
তবে শুধু যে কাজই করা হয়েছে তা নয়, লক্ষ্মী পূজা ও ‘ভাইফোঁটা’ উদযাপনের জন্য মাঝে ছিল তিন দিনের ছুটি। সেই তিন দিন আয়োজনকারীরা অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে যায় রাজধানী কাঠমান্ডুর বিভিন্ন সুদৃশ্য ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ঘুরে দেখার জন্য, কেএসএল ক্যাম্পাসে আয়োজন করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে ব্যান্ড শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও যোগ করে আনন্দ।
৭ নভেম্বর কেএসএলের সমাপ্ত হয় এই আবাসিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রকাশ ওস্তি। আরও উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলীয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল স্টাডিজের পরিচালক ড. ডেনিয়েল সেলারমায়ের, সিএমপির এক্সেস টু জাসটিস কর্মসূচির বিশেষজ্ঞ হেনরিক মনটিগিয়ারডসহ কেএসএল এবং এই প্রশিক্ষণের সাথে সংশ্ল্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ আশা ব্যক্ত করেন যে, প্রতিটি অংশগ্রহণকারী নিজ নিজ দেশে ও সেই সাথে সারা পৃথিবীতে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন অধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবেন। পুরো প্রশিক্ষণের প্রতিটি সেশনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, কাজের প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি বিবেচনা করে সর্বমোট ১৮ জন অগ্রগামী অংশগ্রহণকারীকে ডিপ্ল্ল্লোমা প্রদান করা হয়। ডিপ্ল্ল্লোমা অর্জনকারীদের মাঝে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকের আহমেদ মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। থাইল্যান্ডের মাহিডোল বিশ্ববিদ্যালয়ের নফেল আবুদ ‘ওভারঅল পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন এবং উইন্টার স্কুলের ৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি Elocution Competition Champion হিসেবে আমি পাই ‘একাডেমিক এক্সেল্যান্স অ্যাওয়ার্ড’।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও দুস্থ নারীর জন্য প্রণীত সুবিধাদি
সিতারা শামীম
গ্রামাঞ্চলে স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত নারীরা
সমাজে বিচারপ্রার্থী হয়েও অনেক সময় সঠিক বিচার পায় না বা কখনো কখনো সালিশকাররাও সেই নারীকে আবার নির্যাতনকারী স্বামীর সংসারেই ফেরত পাঠায়। স্বামী কর্তৃক নিগৃহীত বা স্বামীর কাছ থেকে আলাদাভাবে বসবাসকারী নারী বা বিধবা নারীরা অসহায় অবস্থায় বসবাস করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নয়। এই অবস্থায় কী কী সরকারি সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এসব দুস্থ নারীর জন্য- এ বিষয়ে স্থানীয় বেসরকারি সংগঠন ও তৃণমূল পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে অবহিত করার লক্ষ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জেন্ডার অ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস ইউনিটের কর্মএলাকা সিরাজগঞ্জ জেলায় ২০০৮ সালের ১০ জুন অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন উক্ত জেলার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার হাসনা জাহান এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠন মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও মানবাধিকার নারী সমাজ-এর প্রতিনিধি, স্থানীয় বেসরকারি সংগঠনের ৩ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী। এই সভার মাধ্যমে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত সুবিধাদি অবহিতকরণের পাশাপাশি এসব সংগঠনের সাথে যেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যকর যোগাযোগ তৈরি হয় এবং তাদের মাধ্যমে যেন স্থানীয় দুস্থ নারীরা সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত বিবিধ সুবিধাদি সম্পর্কে জানতে পারে সে লক্ষ্যে আলোচনা করা হয়। মতবিনিময় সভায় নিম্নলিখিত সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়-
১. মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো জানায়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম, সুবিধাদি যথেষ্ট প্রচারিত নয়।
২. বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবং দুস্থ নারীর এককালীন অনুদান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নির্বাচিত ইউপি সদস্যরা অন্যায় প্রভাব খাটান।
৩. এককালীন অনুদান মঞ্জুর হলে তা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
৪. অসহায়, আশ্রয়হীন, নির্যাতিত নারীর জন্য ৬টি বিভাগীয় শহরে একটি করে মহিলা সহায়তা কেন্দ্র চালু আছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
৫. মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সমিতিকে কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ (শস্য উৎপাদন, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ), জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেলাই প্রশিক্ষণ (বছরে একবার) নারীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে যথেষ্ট নয়।
৬. নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কম্পিউটার বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকা উচিত, যা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাস্তবায়িত সুবিধার ক্ষেত্রে খুবই সীমিত। নির্দিষ্ট কিছু জেলায় চালু আছে।
৭. নির্যাতিত নারীর চিকিৎসা সেবা, আইন সহায়তা ও কাউন্সিলিংয়ের জন্য ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সংখ্যা যথেষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে মহিলা বিষয়ক পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করার পর থেকেই নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে নারীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।
সুপারিশ
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সরকারের একটি গুরত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে অসহায় দরিদ্র নারীদের মুখপাত্র বলা যায়। তাই উপরোল্লিখিত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা বিষয়ে এই প্রতিষ্ঠানকেই সরকারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত কার্যক্রম সাধারণ জনগণের কাছে যথেষ্ট প্রচারিত না হলে এই উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল হবে না। নারীর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে শক্তিশালী প্রশিক্ষণ সেল থাকা প্রয়োজন, যেখানে কারিগরি, বৃত্তিমূলক, নারী অধিকার, শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। নির্যাতিত নারীর জন্য ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। দুস্থ নারীর অনুদান প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা রোধে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দুস্থ নারীর জন্য যে সীমিত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা যেন যথাযথ নিশ্চিত হয় সেজন্য স্থানীয় বেসরকারি সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। সর্বোপরি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এসব স্থানীয় সংগঠনের মতবিনিময় সভা তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করবে এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ সুবিধাদি সম্পর্কে জানতে পারবে।