সব ধরনের শাস্তি কমিয়ে কতটা কার্যকর হবে সড়ক পরিবহনের সংশোধিত আইন

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বাস্তবায়নের দেড় বছরের মধ্যে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশোধিত আইনে চালক ও শ্রমিকদের সব ধরনের শাস্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর তীব্র আন্দোলনের মুখে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করে সরকার। সেই আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হতেই এতে বেশ কিছু বড় ধরনের পরিবর্তন তথা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে কমানো হচ্ছে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পরিমাণ। শিক্ষাগত যোগ্যতায় আনা হচ্ছে পরিবর্তন।

সংশোধিত আইনের খসড়া প্রণয়ন করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গত ১৩ মে পর্যন্ত মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। মতামত নেওয়া শেষ হলে আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম।

যে পরিপ্রেক্ষিতে আইনের সংশোধন হচ্ছে

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইনটি পাশ হয়। আইনটি পাশ হওয়ার পর পরেই এটি পরিবর্তনের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা দুই দফায় ধর্মঘট ডাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনটি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২০১৯ সালের পহেলা নভেম্বর সরকার আইনটি প্রয়োগের ঘোষণা করে। যদিও সেখানে কিছু ধারা শিথিল করার কথা ট্রাফিক পুলিশকে বলা হয়। সেভাবেই এতদিন আইনটি বাস্তবায়ন করছিল ট্রাফিক পুলিশ।

কী আছে খসড়া সংশোধনীতে

আইনটির ১০৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি মোটরযান দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন বা মারা যান, তাহলে তা ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী অপরাধ বলে বিবেচনা করা হবে। পেনাল কোডের ৩০৪/বি ধারায় যা-ই বলা থাকুক না কেন কারো নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি চালানোর ফলে বা অবহেলাজনিত কারণে কেউ যদি দুর্ঘটনার শিকার হন এবং এতে যদি কেউ মারা যান বা মারাত্মকভাবে আহত হন, তাহলে তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড কিংবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় শাস্তি হবে। কিন্তু, খসড়ায় ‘মারাত্মকভাবে আহত’ বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং জরিমানা ৩ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে, পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিষয়টি রাখা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে জরিমানার টাকা সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধের জন্য আদালত আদেশ দিতে পারবেন। বর্তমানে আইনের ৮৪, ৯৮ ও ১০৫ ধারা অজামিনযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আইনটি সংশোধন হলে ৮৪ ও ৯৮ ধারা জামিনযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। ৮৪ নম্বর ধারায় অবৈধভাবে মোটরযানের আকৃতি পরিবর্তনে শাস্তির কথা বলা হয়েছে। ৯৮ নম্বর ধারায় ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালানোর শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। উপরন্তু, খসড়া অনুযায়ী ৯৮ ধারাকে আপসযোগ্য বলা হয়েছে। অবৈধ ও অবৈজ্ঞানিকভাবে গাড়ির আকার পরিবর্তন এবং ওভারলোডিংকে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে বিবেচনা করা হয় এবং এ অপরাধ যাচাইয়ের এক্তিয়ার ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেই। ওভারলোডিং সড়ক ও সেতুর ক্ষতির অন্যতম কারণ। খসড়া অনুযায়ী, ১১টি ধারার নির্ধারিত জরিমানা এবং চারটি ধারার কারাদণ্ডের শাস্তি কমানো হবে। যেমন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অনির্ধারিত জায়গায় গাড়ি পার্ক করলে বা যাত্রী ওঠানামা করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। কিন্তু, খসড়া অনুযায়ী এ অপরাধের জন্য মাত্র ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। ৫৭ ধারায় ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দিতে আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী ওই তহবিলের উৎস হিসেবে নিয়ন্ত্রণহীন চালক ও মোটরযান মালিকের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, সংশোধিত খসড়ায় এ বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে, কর্তৃপক্ষকে সরকারি তহবিল বা পরিবহন সংগঠনগুলোর দেওয়া চাঁদার ওপরেই নির্ভর করতে হবে। ২৫(২) ধারা অনুযায়ী ফিটনেসের অনুপযোগী কোনো মোটরযানের ফিটনেস সনদ দেওয়ার সঙ্গে কোনো কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু, খসড়ায় এটি বাদ দিয়ে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ মোটরযানকে কোনোভাবেই ফিটনেস সনদ দেওয়া যাবে না। সংশোধিত খসড়ায় কন্ডাক্টরের পাশাপাশি ‘সুপারভাইজার’ নামে একটি পদ যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘হেলপার কাম ক্লিনার’ ও ‘বন্দোবস্তকারী’ নামেও পদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গণপরিবহণে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন ও নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা দাবি বা আদায় করলে শাস্তি সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। একই সঙ্গে চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ১ পয়েন্ট কাটা হবে। সংশোধিত আইনে জরিমানা কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করা ছাড়াও চালকের পয়েন্ট কাটার বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান আইনে অতিরিক্ত ওজন বহন করে মোটরযান চালানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে এবং চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ২ পয়েন্ট কাটা হবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, এখন এই জেল-জরিমানা মালিক, প্রতিষ্ঠান, বন্দোবস্তকারী সমিতি, মধ্যস্বত্বভোগী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ঠিকাদার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে। চালকের ক্ষেত্রে এই বিধান লঙ্ঘনে শাস্তি তিন মাসের কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ১ পয়েন্ট কাটা হবে।

নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার কোনোরূপ শব্দ সৃষ্টি বা হর্ন বাজানো বা যন্ত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে এখন শাস্তি সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ১ পয়েন্ট কাটা হয়। এক্ষেত্রে কারাদণ্ড কমিয়ে এক মাস এবং জরিমানাও কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে। পরিবেশ দূষণকারী, ঝুঁকিপূর্ণ ইত্যাদি মোটরযান চালানোর শাস্তিও কমছে। এখন এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড পেতে হয়। একই সঙ্গে চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ১ পয়েন্ট কাটা হবে। সংশোধিত আইনে কারাদণ্ড কমে এক মাস এবং জরিমানা কমে ১০ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

বর্তমান আইনে অতিরিক্ত বা বেপরোয়া গতি বা ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বা ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরযান চালানোর ফলে কোনো দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হয় এবং মোটরযানের নির্মাণ, সরঞ্জাম বিন্যাস ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত অপরাধ জামিন অযোগ্য রাখা হয়েছিল। সংশোধিত আইনে তা তুলে দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এ আইনের ১২৬টি ধারার মধ্যে ২৯টি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি ধারায় বিদ্যমান কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড কমানো হচ্ছে। আর ভারী ও মাঝারি মোটরযানের সংজ্ঞাসহ আটটি বিষয়ের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

১৬ এপ্রিল ২০২১ তারিখের দ্য ডেইলি স্টার সূত্রে জানা যায় আইনের এই সংশোধনের বিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, পরিবহন সেক্টরে যারা আছেন তারা সরকারি দলের নেতা। সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্যের নেতৃত্বাধীন পরিবহন সংগঠনকে অত্যন্ত ক্ষমতাবান উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবহন খাতে অরাজকতার জন্য মূলত যারা দায়ী, তাদের দাবির ভিত্তিতেই সরকার আইনটি সংশোধন করতে যাচ্ছে। আইনটি পাশ হওয়ার পর তারা এটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নই করতে দেননি। তারা সংশোধনের জন্য লেগে ছিলেন। তারা যেটা চাইছেন, সেটাই হবে। তিনি আরো বলেন, আবার যদি সড়কে ছাত্র মারা যায়, বড় ধরনের আন্দোলন হয়, তবে হয়তো আবার নড়াচড়া হবে। আইনটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা উচিত ছিল, তারপর অসুবিধাগুলো দেখে প্রয়োজনে সংশোধন করা যেত। তিনি বলেন, পরিবহন সেক্টরে যে নৈরাজ্য চলছে, সেখানে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা কোনো আশা দেখছি না। কিন্তু আমরা দেখছি, পরিবহন সেক্টরের লোকজন যা চাইছে তা-ই হচ্ছে। এখন করোনা মহামারি চলছে, লকডাউন চলছে। এর মধ্যে এরা এগুলো করছে। মানুষ রাস্তায় নামতে পারবে না, তারা মূলত এই সুযোগটা নিচ্ছে। সরকারদলীয় এক সাংসদ সদস্যের নেতৃত্বাধীন পরিবহন সংগঠনকে অত্যন্ত ক্ষমতাবান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাতে অরাজকতার জন্য মূলত যারা দায়ী, তাদের দাবির ভিত্তিতেই সরকার আইনটি সংশোধন করতে যাচ্ছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন বাংলাদেশে গড়ে ৫৫ ব্যক্তি প্রাণ হারাচ্ছে। বাংলাদেশ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যে আরো বলা হয়, প্রতিবছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় আর আহত হন ৩৫ হাজার জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যানে এসেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪২৭টি। এসব দুর্ঘটনায় ৪৮৪ জন নিহত এবং ৬৭৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে আছেন ৯২ নারী ও ৪৭ শিশু। জানুয়ারিতে সারা দেশে দুর্ঘটনায় ১৪৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, যা ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এ বিভাগে ১১২টি দুর্ঘটনায় ১২৮ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে। এই বিভাগে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ঢাকায় ৩১ দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। আর সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ঝালকাঠি জেলায়। এ জেলায় দুটি দুর্ঘটনায় এক জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭১১। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার মোটরসাইকেল (১৬৪টি)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে ট্রাক (১১৯টি) ও বাস (৮৩টি)। এ ছাড়া ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পো-লেগুনা-মিশুক সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েছে ১৪৮টি।

এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যানে দেশে ৩৯৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৫২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫১৯ জন। গড়ে প্রতিদিন অন্তত ১৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ১৪৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫৮ জন, যা আগের মাস মার্চের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। এ ছাড়াও এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৭৩ জন। দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে নারী ৫৪ জন ও শিশু ৪৭ জন। এই সময়ে দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সি কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৩৬৪ জন, অর্থাৎ ৮০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে। ২০টি দুর্ঘটনায় নিহত ২১ জন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২৬টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম পঞ্চগড় জেলায়। দুটি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবার আগেই সংশোধন-পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। এই আইন সংশোধন বাস্তবায়িত হলে ২০১৯ সালে আইনটি প্রণয়নের পর পরিবহন খাতে যে বেপরোয়া বাস চালানো, চাঁদাবাজিসহ নানা রকম অনিয়ম, নৈরাজ্য কমে এসেছিল, সেটা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



তথ্যসূত্র

১. আই নিউজ বিডি, ৯ মে, ২০২১

২. দৈনিক ইত্তেফাক, ২৬ এপ্রিল ২০২১

৩. ম্যাড ফর মাইন্ডস, ১ মে ২০২১

লেখক: জাহিদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী
সৌজন্যে: আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
বণিক বার্তা লিংকঃ https://bonikbarta.net/home/news_description/272483/