২৭ নভেম্বর ২০২৫
সংবাদ বিবৃতি
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সালিশের নামে বেত্রাঘাত ও জরিমানার ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর গভীর উদ্বেগ এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সালিশের নামে বেত্রাঘাত ও জরিমানার ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ এবং নিন্দা জানাচ্ছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কনের বিয়ের অনুষ্ঠানে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে গ্রামের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি বর ও কনের পরিবারকে প্রকাশ্যে মারধর করেন এবং সালিশের নামে প্রত্যেককে ১৫টি করে বেত্রাঘাতের শাস্তি কার্যকর করেন। এর পাশাপাশি তাদের ওপর ৩০,০০০/-(ত্রিশ হাজার) টাকা জরিমানা আরোপ করা হয় এবং সেই টাকা দিতে না পারায় বরপক্ষের অটোরিকশা আটকে রাখা হয়, যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, এ ধরনের শাস্তি আরোপের ক্ষমতা কোনো ব্যক্তি বা স্থানীয় সালিশকার বা কোন কর্তৃপক্ষের নেই। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ নাগরিকের আইনের সুরক্ষা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর দণ্ড থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। এর বাইরে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক জরিমানা বা সম্পদ আটকে রেখে চাপ সৃষ্টি করা সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। উল্লেখ্য, দেশের উচ্চ আদালত একাধিক রায়ে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, গ্রামীণ সালিশ বা স্থানীয়ভাবে গঠিত কোনো অ-বিচারিক কাঠামোর শারীরিক শাস্তি বা জরিমানা আরোপের ক্ষমতা নেই এবং এ ধরনের সব কার্যকলাপ অবৈধ ও অসাংবিধানিক।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জোর দিয়ে বলছে যে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং তাদের প্রতি হওয়া অবমাননা ও সহিংসতার প্রতিকার প্রদান রাষ্ট্রের দায়িত্ব। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)আহ্বান জানাচ্ছে, এ ধরনের বেআইনি সালিশ, শারীরিক শাস্তি ও জোরপূর্বক জরিমানা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আরও কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের দুঃসাহস না পায়।











Visit Today : 553
Visit Yesterday : 2001
Total Visit : 297967
Who's Online : 7