২৯ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ বিবৃতি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতা ও উস্কানি মূলক আচরনঃ আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর গভীর উদ্বেগ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, সহিংসতা, উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে। এসকল ঘটনা নির্বাচনকালীন পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তি ও কর্মীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। গতকাল শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় একজন নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, একই ঘটনায় বিএনপি দলীয় একজন নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়াও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩০ জন কর্মী সমর্থক আহত হন। বিগত কয়েকদিনে দেশের নানা স্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থকেরা প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রচারণাকালে নারীদের বোরকা বা নেকাব জোরপূর্বক খুলে ফেলার একটি অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে কোনো নাগরিককে এ ধরনের অপমান বা চাপের মুখে পড়তে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে প্রচারণায় ধর্মকে ব্যবহার করা কিংবা অন্যান্য ধর্মচর্চাকারী নাগরিকদের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করে ভোট চাওয়ার প্রবণতাও উদ্বেগজনক। এসব আচরণ সংবিধানে নিশ্চিত নাগরিকের সমান মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী।
এ ছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, প্রচারণাকালে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শিষ্টাচারবিরোধী ও অশালীন ভাষার ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করার অভিযোগ গনমাধ্যম সুত্রে পাওয়া যাচ্ছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, নির্বাচন একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজ পছন্দ অনুযায়ী ভোট প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত দায়িত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে সহিংসতা, অনিয়ম, বৈষম্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো স্থান থাকবে না।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) স্পষ্টভাবে বলতে চায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, উসকানি, ভোটারকে অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা, ধর্মের অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবিরোধী আচরণ সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। একটি গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সংযম ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।












Visit Today : 339
Visit Yesterday : 687
Total Visit : 334051
Who's Online : 6