ধর্ষণের অভিযোগ: পাঁচ বছরে মামলা ১৯ হাজার ~ইত্তেফাক

প্রকাশিতঃ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ইত্তেফাক
লিঙ্কঃ ধর্ষণের অভিযোগ: পাঁচ বছরে মামলা ১৯ হাজার


দেশে ধর্ষণের শিকার মোট শিশু-কিশোরীদের মধ্যে হত্যার শিকার হয় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। যা সংখ্যায় ৮৬ শতাংশ। তবে সারা দেশের সব ঘটনা জানা যায় না।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুয়ায়ী, প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই ঘটনার শিকার নারীর বয়স জানা যায় না। কিন্তু যাদের বয়স পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই উঠে এসেছে এ তথ্য। ধর্ষণজনিত হত্যার শিকার শিশুরা প্রায়ই একই বয়সি। এদের বেশির ভাগের বয়স ১২ বছরের মধ্যে। এই বয়সিদের মধ্যে আবার গণধষর্ণের শিকারও আছে।

এ হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার নারীর সংখ্যা মোট ৪ হাজারের মতো। তবে ধর্ষণ নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের মতে, ঘটনা অনেক বেশি। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে পাঁচ বছরে ধর্ষণের অভিযোগে ১৯ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। অর্থাত্ দিনে গড়ে ১১টি মামলা হচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০৮ জন। তার মধ্যে শিশু ৭২ জন । যাদের সাত জন গণধর্ষণের শিকার। এ ছাড়া চার জন শিশুসহ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৯ জনকে। শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে এক জন। ছয় জন শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। আর জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনে শিকার হয়েছে ২৫৯ নারী ও শিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই তথ্য প্রকাশ করে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ধর্ষণজনিত হত্যার শিকার হয়েছে ২৭৮ জন। ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে ৪২ জন। বয়সের তথ্য অনুয়ায়ী, ধর্ষণের পর আত্মহত্যাকারীদের ৮৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের মধ্যে।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নিবার্হী পরিচালক সালমা আলী বলেন, শিশুরা যে হারে সহিংসতার শিকার হচ্ছে তাতে শিশুদের সুরক্ষা দিতে সুনির্দিষ্ট আইন থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে যেসব আইন আছে তার প্রয়োগ জরুরি। ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনায় রাষ্ট্রকে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাতে হবে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এবং বিচার প্রাপ্তিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে।

শিশুদের যৌন নিপীড়নের বিষয়ে কাজ করা সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা ইত্তেফাককে বলেন, সামান্য চকলেট বা অন্য কিছু দেখিয়েই শিশুদের ভোলানো যায়। তাছাড়া শিশুরা ঠিকভাবে বিষয়টি বলতে পারে না। তাই তারা টার্গেটে থাকে। আর ১৮ বছর পর্যন্ত কিশোরীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। অভিভাবক বা মায়ের সঙ্গে মেয়ের ভালো সম্পর্ক থাকতে হবে। মেয়েকে এসব বিষয়ে সব বুঝিয়ে বলতে হবে।