প্রকাশিতঃ ১৫ মার্চ ২০২১, সংবাদ
লিঙ্কঃ মাদ্রাসায় শিশু-শিক্ষার্থী নির্যাতনে উদ্বেগ প্রকাশ ‘আসক’-এর
আদালতের রায়ের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক)। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে হারে শিশু শিক্ষাথীদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চলে তা প্রকৃত চিত্র গণমাধ্যমে আসে না। এ অবস্থায় তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন বন্ধে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে।
আসক জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বলাৎকারসহ বিভিন্ন রকম নির্মম নির্যাতনের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে। অতিসম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি শিশুশিক্ষার্থীকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পেটানোর পাশাপাশি গত মাসে গাজীপুর, আশুলিয়া, বাউফলসহ মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক শিশু বলাৎকারের ঘটনা জানা গেছে। আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক) মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর এমন নির্যাতন ও বলাৎকারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। আসক মনে করে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদ্রাসাসহ প্রতিটি শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা দারকার যাতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হয়।
উল্লেখ্য, মাদ্রাসায় শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিছুদিন পর পরই আমরা এসব সংবাদ গণমাধ্যম সূত্রে পেয়ে থাকি। তবে গণমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয় তা প্রকৃত অবস্থার এক কিয়দংশেরও প্রতিফলন ঘটে না। দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাগুলোকে নিয়মিত পর্যবেক্ষনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানিয়ে আসা হলেও কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। গত ২০১১ সালে উচ্চআদালতের একটি রায়ে যেকোন ধরনের শারীরিক বা মানসিক শাস্তিকে বাংলাদেশ সংবিধান ও আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে এ ধরনের শাস্তি প্রদানকে অবৈধ ঘোষণা করে।
এই রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষামন্ত্রণালয় একটি ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রদান নিষিদ্ধ করণ নির্দেশনা’ জারি করে যা সরকারি এবং বেসরকারি, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। এতদসত্ত্বেও মাদ্রাসাগুলোতে কোন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা যাচ্ছে না। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে মাদ্রাসা বোর্ডগুলোতে তত্ত্বাবধানের অভাব রয়েছে। যার ফলে কর্তৃপক্ষের দায় এড়িয়ে যাবার প্রবণতা জবাবদিহিতার ঘাটতিকে আরও তীব্র করে তুলছে।
আসক এ বিষয়ে সরকারের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের শিশু আইন, আর্ন্তজাতিক শিশু অধিকার সনদ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শিশুদের সুন্দর বর্তমান ও ভবিষ্যত নির্ধারণ করার জন্য করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা যথাযথভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানাচ্ছে।











Visit Today : 317
Visit Yesterday : 918
Total Visit : 402332
Who's Online : 2