লেখক মুশতাকের মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি হত্যাকাণ্ড, পর্যালোচনা দরকার ~প্রথম আলো

প্রকাশিতঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, প্রথম আলো
লিঙ্কঃ লেখক মুশতাকের মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি হত্যাকাণ্ড, পর্যালোচনা দরকার


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদ (৫৩) গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রথম আলোকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মহাসচিব নূর খান লিটন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর তদন্ত হওয়া উচিত। যে আইনে মুশতাক আহমেদে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং যে আইনে তাঁকে কারাগারে রাখা হয়েছিল, একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে বলতে পারি, এই আইনটি হয়রানিমূলক, কালো আইন, এর পরিবর্তন হওয়া উচিত।

দীর্ঘদিন ধরে লেখক মুশতাককে কারাগারে রাখা হয়েছিল। প্রায় এক বছর। বারবার তাঁর জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সে অভিযোগ ধোপে টেকে না, তার কোনো গুরুত্বই নেই। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা দায়ের ও সাক্ষী উপস্থাপন কতটা যৌক্তিক হয়েছে, তা নিয়েও রাষ্ট্রের ভাবতে হবে, না হলে এই আইন ব্যবহার করে দিনের পর দিন মানুষকে হয়রানি করা হবে, বাক্‌স্বাধীনতা রুদ্ধ হবে। আমরা জানি, এই আইনে গ্রেপ্তার কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর এখনো কারাগারে আছেন। তাঁর জামিন হয়নি। তাঁর পরিবার বারবার বলছে, তাঁর ওপর নির্যাতন হয়েছে। এ বিষয়টি এখনই দেখা প্রয়োজন।

আমরা দেখেছি লেখক, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক মানবাধিকারকর্মী সবার ওপরই এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তা বানোয়াট, কল্পকাহিনির মতো শোনায়। এ থেকেই এই আইনের অসারতা বোঝা যায়। মুশতাকের মৃত্যুর মাধ্যমে এটাই বলা যায়, এই আইন মুক্তচিন্তার স্বাধীনতাকে এমনভাবে খর্ব করে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁকে তাঁর দায় থেকে অব্যাহতি দিতে পারে না। মুশতাকের বিরুদ্ধে যে বিষয়ের কথা বলা হয়েছে, অভিযোগপত্রে তার কতটা মিল আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি তা বুঝতে না পারে, তাহলে তার প্রয়োগ করবে কেন? এ আইন মুক্তচিন্তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জন্য ভালো হতে পারে না।

মুশতাকের এই মৃত্যুর তদন্ত হওয়া উচিত। কারাগারে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, কী অবস্থায় হয়েছে, এটি স্বাভাবিক না হত্যাকাণ্ড, তার পর্যালোচনা করা দরকার। কারণ, মৃত্যুর জন্যও প্ররোচনা হতে পারে। আইনও প্ররোচিত করতে পারে মৃত্যুর জন্য। মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা রুদ্ধ করে দিলেও তা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।