প্রকাশিতঃ ৮ মার্চ ২০২১, বাংলা ট্রিবিউন
লিঙ্কঃ ‘নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি’
নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি বলে মনে করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল। সোমবার (৮ মার্চ) ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে সমতার বিশ্ব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সংগঠনের সম্মেলন কক্ষে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১’ এর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
গোলাম মনোয়ার কামাল স্বাগত বক্তব্যে নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ফলে নারীদের কিছু কিছু অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে একইসঙ্গে নারীদের কাজের ভারও বেড়ে গিয়েছে অনেকগুণ। বাইরের কাজের পাশাপাশি নারীকে একইভাবে ঘরের কাজও করতে হচ্ছে। গৃহস্থালীর কাজে পুরুষেরা এখনও সেভাবে অংশগ্রহণ করছে না। এক্ষেত্রে পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।’
কর্মজীবী নারীরা কর্মক্ষেত্র ও গণ-পরিবহনসহ পারিবারিক বলয়ে প্রতিনিয়ত সহিংসতার শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমতাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার মূল শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিবারকে গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটা সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পরিবার থেকে নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার অনুশীলন শুরু হবে।’ যদি পরিবার থেকে সমতার শিক্ষা শুরু করা যায়, তাহলে সমাজের সর্বস্তরে নারীর প্রতি সহিংসতা লোপ পাবে এবং নারী-পুরুষ সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আসক-এর সিনিয়র উপ-পরিচালক (প্রোগ্রাম) নিনা গোস্বামী বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা প্রায়শই শুনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব রয়েছে। এগুলো বলে আমরা আত্মশ্লাঘা অনুভব করার চেষ্টা করি। আমরা ভুলে যাই, প্রতিদিন কতজন নারী বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে, শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে নারীর উপস্থিতির তুলনায় উচ্চ শিক্ষায় নারীর উপস্থিতির হার খুবই কম। উচ্চ শিক্ষার অনেক বিভাগে নারীদের যেতেও নিরুৎসাহিত করা হয়। নারী বলে খাটো করে দেখা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিগত দশকগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। তবে বিচার বিভাগ কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে দেখা যায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারীর সংখ্যা হাতে গোনা। নারীদের এসব ক্ষেত্রে দুর্বল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, ফলে পদোন্নতি হয় বৈষম্যমূলক।’ তবে শুধু নারীদের সংখ্যাগত দিকই নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব নারী রয়েছেন, তারা যদি প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার ধ্বজাধারী হন, তাতেও নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব বাধা-বিঘ্ন রয়েছে তা নিরসনে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কাজ করার শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
আসকের সমন্বয়কারী রোকনুজ্জামান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির, সিনিয়র আইনজীবী সেলিনা আক্তার, সিনিয়র ডকুমেন্টালিস্ট ফাহমিদা জামান ও ঝর্না খানম প্রমুখ।











Visit Today : 327
Visit Yesterday : 918
Total Visit : 402342
Who's Online : 2