প্রকাশিতঃ বাংলা ট্রিবিউন, ৩০ মার্চ ২০২১
লিঙ্কঃ হেফাজতের কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আসকের নিন্দা
হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা ও দাবি জানায় সংগঠনটি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে গৃহীত কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কত কয়েকদিন ধরে সাংবাদিকরা নানা হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়। এ ধরনের হামলা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় বলে মনে করে আসক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৬ মার্চ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় হেফাজতে ইসলাম ও সরকার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক ও ফটো সাংবাদিকরা। কারও কারও মুঠোফোন ও ক্যামেরাও কেড়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে ২৭ মার্চ হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলায় আহত হয়েছেন প্রেসক্লাবের সভাপতি।
আসক জানায়, হামলার শিকার ও আহত ফটো সাংবাদিকেরা হলেন প্রথম আলোর হাসান রাজা ও আশরাফুল আলম, ডেইলি স্টার-এর এমরান হোসেন ও প্রবীর দাস, দেশ রূপান্তর-এর হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর জয়িতা রায়, নিউএইজ-এর আবদুল্লাহ অপু, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের মাহমুদুজ্জামান অভি, ডেইলি সান-এর রিয়াজ আহমেদ ও সারাবাংলা ডট নেটের হাবিবুর রহমান। ঢিলের আঘাতে ৭১ টিভির প্রতিবেদক ইশতিয়াক ইমন এবং পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে বাংলাভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক দীপন দেওয়ান ও বাংলা নিউজের শেখ জাহাঙ্গীর আলম আহত হন।
হরতাল চলাকালে ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের ছবি তোলার সময় নিউজ বাংলা টোয়েন্টিফোরের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় হরতাল সমর্থকরা। অন্যদিকে দৈনিক সংবাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন যে, হেফাজত কর্মীরা তাকে হেনস্তা করে এবং তার মুসলমান পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে কলমা পড়তে বাধ্য করে।
একই এলাকায় হরতাল সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছেন নিউএইজের সাংবাদিক মোক্তাদির রশিদ রোমিও। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে পিকেটাররা। সাইনবোর্ড মোড়ের কাছে জিটিভির ক্যামেরা পারসন মাসুদুর রহমান মারধরের শিকার হয়েছেন। ইট-পাটকেল ছোড়ার ফুটেজ নেওয়ার সময় জিটিভির ক্যামেরা পারসন মাসুদকে মারধর করে। হেফাজতকর্মীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রেসক্লাবেও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় আহত হয়েছেন প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজুদ্দিন জামি।
আসক বলে, সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।












Visit Today : 79
Visit Yesterday : 457
Total Visit : 390314
Who's Online : 1