প্রকাশিতঃ ১৩ মে ২০২১, বাংলা ট্রিবিউন
লিঙ্কঃ করোনাকালেও গড়ে প্রতিদিন পাঁচজন ধর্ষণের শিকার
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল। এ ১৬ মাসে দেশব্যাপী ২০১৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভিকটিমদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের সংখ্যাই বেশি। ২০২০ সালে ১৬২৭টি ধর্ষণেরে ঘটনায় এ বয়সীর সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন শ’র মতো। ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৭১ জন। আত্মহত্যা করেন ১৮ জন। এ ছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে ৪০২টি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য পর্যালোচনা করে আরও দেখা গেছে, ৭ থেকে ১২ বছর শিশুরাও ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পায়নি এ সময়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক-পারিবারিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেভাবে যৌনশিক্ষা দেওয়া হয় সেটা সঠিক নয়। সঠিক যৌনশিক্ষা দেওয়া হলে এবং সেইসঙ্গে ছেলেমেয়েরা যদি নৈতিক শিক্ষার বলয়ে বেড়ে ওঠে, তবে তাদের মধ্যে সহিংস হওয়ার প্রবণতা কমবে।
অন্যদিকে, মহামারির কারণে মানসিক ও আচরণগত সমস্যাও বাড়ছে। যৌন নির্যাতন ব্যক্তির আচরণগত সমস্যার অংশ। করোনাকালীন ঘরে থেকে ও কাজ হারিয়ে অনেকেই হতাশায় ভুগছে। আর তাই পরিবারের সদস্যদের দ্বারাও সহিংসতার কবলে পড়ছেন নারীরা। অনেক সময় দেখা যায় ঘটনার শিকার হলেও নারী ও শিশুরা পরিবারকে এসব বিষয়ে জানাতে চান না।
আবার ধর্ষণকারী প্রভাবশালী হলে অনেকেই এ ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও জানাতে চান না। বিচারহীনতার সংস্কৃতিও এখানে বড় ভূমিকা রাখছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ধর্ষণকারীদের সেভাবে বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরিমাণ বেশি হলে অনেকেই ভয় পেতো। অ্যাসিড সন্ত্রাস এখন কমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠিন শাস্তি দেওয়াতেই এমনটা হয়েছে।
ড. সালমা আরও বলেন, আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে বহুদিন ধরে ধর্ষণের বিচার হচ্ছে না। ধর্ষণকারীদের সামাজিকভাবেও বয়কট করা হচ্ছে না। মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উল্টো ধর্ষণের শিকার নারীই হ্যারাসমেন্টের শিকার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, করোনাকালীন ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার আরেক অন্যতম কারণ, স্যোশাল সাপোর্ট সিস্টেমের ঘাটতি। অন্য সময় বিভিন্ন সংগঠনগুলোতে নারীরা সহায়তা চাইতে পারতেন। কিন্তু করোনার কারণে এখন তা কম পারছেন। নারী সংগঠনগুলোর সামাজিক যোগাযোগটা শক্ত হলে দেখা যেতো ধর্ষকের মনে একটা ভয় থাকতো।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র উপ-পরিচালক নীনা গোস্বামী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিচারহীনতার কারণেই ধর্ষণ বেড়েছে। আইনের আওতায় আনার পর বিচারকাজ যদি অন্তত ছয়মাস বা এক বছরে শেষ করা যেতো তাতেও কাজ হতো। যারা ভুক্তভোগী তারা আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয়রান হচ্ছেন, আশাহত হচ্ছেন। আমরা বিভিন্ন সময় বলছি, ধর্ষণ মামলাগুলোর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। বেঞ্চ করতে হবে। যেখানে ধর্ষণের মামলাগুলো হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাড়াতাড়ি শেষ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের কাছে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল। ধর্ষণের প্রতিরোধে আইনের সংস্কার দরকার। কিন্তু এগুলো আমলে না নিয়েই আইন সংশোধন করা হলো।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক রাউফুন নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনার কারণে মানসিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে মানুষ ভুগছে। বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ায় হতাশা বাড়ছে। সেক্সুয়াল অ্যাবিউস একটি আচরণগত সমস্যা। তাই এটাও বাড়ছে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেশিশুদের যৌনতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া হয় না। শিক্ষাব্যবস্থাতে তো নেই, পারিবারিকভাবেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয় না। যার কারণে যৌনতার প্রকাশে অনেকেই অসুস্থ থেকে যাচ্ছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনায় ‘পাওয়ার রেপিস্ট’-এর সংখ্যা বেড়েছে। এ ধরনের ধর্ষকরা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বা ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করছে। ধর্ষণ বিষয়ক যেকোনও অভিযোগ পেলে আমরা খতিয়ে দেখছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে অপরাধীকে।’











Visit Today : 427
Visit Yesterday : 728
Total Visit : 388337
Who's Online : 3