২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ বিবৃতি
ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র(আসক) এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
ঢাকার ধামরাইয়ে যুবলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে না পেয়ে তাঁর ৬০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ যুবলীগের কর্মী রিফাত আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। তাঁকে না পেয়ে তাঁর বাবা কলিম উদ্দিনকে থানায় নিয়ে গিয়ে পরে একটি ‘পেন্ডিং মামলায়’ গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কলিম উদ্দিনের নামে আগে কোনো মামলা ছিল না এবং তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতা নন। তাঁকে আওয়ামী লীগের সমর্থক- এই তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, আইন প্রয়োগের নামে পরিবারের একজন সদস্যকে খুঁজে না পেয়ে তাঁর কোনো স্বজনকে গ্রেপ্তার করা কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।একজন ব্যক্তির দায় অন্য ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ ও আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩২ অনুচ্ছেদে আইনানুযায়ী ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তি (আইসিসিপিআর)-এর ৯ অনুচ্ছেদেও নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অতীতের বিভিন্ন সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হয়রানি, আটক ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। আসক মনে করে, সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় আচরণের সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। অতীতে যে ধরনের আটক, হয়রানি ও গ্রেপ্তারের সংস্কৃতি নাগরিকদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে, বর্তমান সরকারকে সেই সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) দাবি করছে, মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ না থাকলে তাঁকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে,পরিবারের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয় বা কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে আটক, গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে।












Visit Today : 717
Visit Yesterday : 1946
Total Visit : 355934
Who's Online : 12