15 Charge Sheets Will be Issued Against Those Responsible, including the owner of Tazreen Fashions.
Source : Prothom Alo | 24 November 2013
আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের মালিক দেলোয়ার হোসেনের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় দেলোয়ার, তাঁর স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাহমুদা আক্তারসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অবহেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে শিগগিরই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
তবে অগ্নিকাণ্ডের পর সরকার, বিজিএমইএসহ বিভিন্ন মহল থেকে নাশকতার যে কথা বলা হয়েছিল, তদন্তে এর কোনো প্রমাণ পায়নি সিআইডি। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সিআইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা তদন্ত শেষ করেছেন। বর্তমানে আইনি যাচাইয়ের জন্য তদন্ত প্রতিবেদনটি সরকারি কৌঁসুলির কাছে পাঠানো হয়েছে।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লাগে। এতে অন্তত ১১১ জন নিহত, দুই শতাধিক আহত ও অসুস্থ হয়েছেন। কিন্তু গত এক বছরেও দেলোয়ার গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ রয়ে গেছে। বলা হচ্ছে, নাশকতার কথা প্রচার করে কৌশলে তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন আশুলিয়া থানা পুলিশ অজ্ঞাত লোকদের আসামি করে কারখানায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে একটি মামলা করে। ওই মামলায় নাশকতার (দণ্ডবিধির ৪৩৬) পাশাপাশি অবহেলার দরুন মৃত্যুর (৩০৪ ক) ধারাও যুক্ত করা হয়। গত ২ জানুয়ারি থেকে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি।
মামলার তদন্তকারী সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মনছুর আলী মণ্ডল বলেন, কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। বিল্ডিং কোড অনুযায়ী তাঁরা কারখানা ভবন নির্মাণ করেননি। এতে জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। তিনটি সিঁড়ির মধ্যে দুটি নিচতলার গুদামের ভেতরে এসে শেষ হয়েছে, আর একটি একটু দূরে। আর আগুন লেগেছিল ওই গুদামেই। যার কারণে অগ্নিকাণ্ডের পরে শ্রমিকেরা নিচে নেমে আসতে পারেননি।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, কারখানার ছয়টি ফ্লোরের মধ্যে কয়েকটিতে মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা দরজা আটকে রেখেছিলেন। অগ্নিঘণ্টা বাজার পরও শ্রমিকদের নিচে নামতে দেননি তাঁরা। আগুন ও ধোঁয়া সব সময় উর্ধ্বমুখী। গুদামে থাকা সিনথেটিক ও অ্যাক্রিলিক দিয়ে তৈরি কাপড় খুব দ্রুত জ্বলে ভয়ংকর বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করেছে। এই ধোঁয়া সিঁড়ির খোলা অংশ দিয়ে বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই গরম ও বিষাক্ত ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সঙ্গে ঢুকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মানুষগুলো। পরে সেখানেই পুড়ে অঙ্গার হন তাঁরা।
মামলা তদন্ত শুরুর পরে কারখানার মধ্যম পর্যায়ের ছয়জন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে হেফাজতে (রিমান্ডে) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে গ্রেপ্তার হননি অবহেলার দায়ে প্রধান অভিযুক্ত কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন। গত ঈদুল আজহার আগে বাড্ডায় দেলোয়ারের মালিকানাধীন তুবা গ্রুপের আরেকটি কারখানায় বেতন-বোনাস না দিয়ে গোপনে যন্ত্রপাতি বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে শ্রমিকেরা তাঁকে কারখানার ভেতরে সারা দিন আটকে রেখেছিলেন। কিন্তু এবারও তিনি রক্ষা পেয়ে যান।
তাজরীনের ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে (গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জমা দেওয়া) দেলোয়ারের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলা হয়, তাজরীন ফ্যাশনসের মালিক দেলোয়ার হোসেন মোবাইল ফোনে আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঠিকই, কিন্তু দূর থেকে আগুন দেখে আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনার দুই দিন পর অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টিকে দুর্ঘটনা উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। সেই ডায়েরিতে হতাহত শ্রমিকদের কথা কিছুই উল্লেখ না করে ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অথচ তদন্ত কমিটির কাছে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি উল্লেখ করেন, মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬৩ কোটি টাকা। থানার জিডি ও পরবর্তী সময় সাক্ষ্যে ক্ষতির পরিমাণের এই বিশাল তারতম্যের পেছনে কোনো দুরভিসন্ধিজাত অন্তর্ঘাত আছে কি না তা বিবেচনার দাবি রাখে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, কারখানা আইন অনুযায়ী কারখানাটি করা হয়নি। তাই বলা যায়, এটি হত্যাকাণ্ড এবং এর দায়ভার কারখানা মালিককেই নিতে হবে। তিনি বলেন, এ রকম হত্যার পরে যখন সেই মালিক গ্রেপ্তার হন না, তখন অন্যরাও একই রকম আইন না মেনে কারখানা তৈরিতে উৎসাহিত হন। এটা নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির প্রধান অন্তরায়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আক্তার বলেন, বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে অবহেলার দরুন মৃত্যু (৩০৪ ক) সংঘটনের সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর। কিন্তু দেলোয়ারের জন্য পাঁচ বছরের সাজা যথেষ্ট নয়। হত্যার অভিযোগে তাঁর সাজা হওয়া উচিত।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ দেলোয়ার হোসেনকে আগলে রেখেছে।
ঘটনার কয়েক দিন পরে রেহানা নামে নিখোঁজ এক শ্রমিকের ভাই আবদুল মতিন ঢাকার নিম্ন আদালতে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে একটি নালিশি মামলা করেন। আদালত থেকে আশুলিয়া থানাকে তা তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই ঘটনায় আরও একটি মামলা হয়েছে, এখন আর মামলার সুযোগ নেই। এই বিষয়টি উল্লেখ করে আমরা আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছি।’
মেলেনি নাশকতার প্রমাণ: গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছিল, তাজরীনের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত নাশকতা। সেখানে নাশকতার জন্য লোক পাতা হয়েছিল।
আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও নাশকতার কথা বলা হয়। সেখানে বলা হয়, আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, স্বেচ্ছায় কারখানার সুতা ও কাপড়ের গুদামে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এটি কোনো স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নয়। সব বিশ্লেষণ করে এটা প্রতীয়মান হয়, এর পেছনে কোনো অশুভ শক্তির নাশকতামূলক তৎপরতা ছিল।
তবে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি মনসুর আলী বলেন, ‘আমাদের তদন্তে নাশকতার কোনো প্রমাণ মেলেনি। যদিও মামলার এজাহারে নাশকতার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।’













Visit Today : 434
Visit Yesterday : 613
Total Visit : 389685
Who's Online : 2