Deep Concern Over the Lives and Safety of Children: Ain o Salish Kendra (ASK)

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবাদ বিবৃতি

শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছেঃ আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধার, ধর্ষণের পর হত্যা, নির্যাতনসহ নানা সহিংসতার ঘটনা শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর সংগৃহীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় মোট ২৫৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য আসক এর  পর্যবেক্ষণে এসেছে। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তবে নিখোঁজের তথ্য পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ না হওয়ায় এ পরিসংখ্যানে বিভ্রান্তির সম্ভাবনার কথাও পুলিশ জানিয়েছে।

শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সংবিধান, জাতীয় শিশু নীতি, শিশু আইন এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী এ দায়িত্ব পালনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে একটি সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদ জাতীয় তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যাতে নিখোঁজ, উদ্ধার এবং এখনো নিখোঁজ শিশুদের প্রকৃত চিত্র জানা যায় এবং ঝুঁকির ধরন চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো শিশুর মরদেহ উদ্ধার হলে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হলো, তাকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, কোনো অবহেলা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না এবং অপরাধের সঙ্গে কারা জড়িত-এসব বিষয় নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের আওতায় আনতে হবে।” -বলেন আসক এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) অপ্রতিমসহ সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ হয়ে নিহত শিশুদের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি বা অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধার হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া, সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।